শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তাজমহলে মমতাজের পাশে শায়িত হচ্ছেন শাহজাহান!

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৭ পিএম

শিরোনাম দেখে হয়তো ভ্রু কুঁচকালেন। মমতাজ-শাহজাহানের কি তাহলে পুনর্জন্ম হয়েছে! না, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে সেই সাম্রাজ্য না থাকলেও ঠিকই স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় নতুন তাজমহল গড়ে তুলেছিলেন আরেক শাহজাহান। কিন্তু এর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তিনি। নিজের স্বপ্নের তাজমহলে স্ত্রীর পাশে শায়িত হচ্ছেন নতুন শাহজাহান।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের ফয়জুল হাসান কাদরিই হলেন এ কালের শাহজাহান। গলায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১১ সালে মারা যান স্ত্রী তাজমুল্লি বেগম। ৫৮ বছরের বিবাহিত জীবনের বিচ্ছেদ তিনি সইতে পারছিলেন না। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে গড়তে শুরু করেন ছোট্ট একটি তাজমহল।

সামান্য পোস্ট মাস্টারের চাকরি ছিল তার। সারাজীবনের সঞ্চয় আর অবসরকালীন ভাতা- এ দিয়ে নির্মাণ শুরু করলেন এই মিনি তাজমহল। স্বাভাবিকভাবেই আকার আর জৌলুসের দিক দিয়ে সম্রাট শাহজাহানের তাজমহলের সঙ্গে কোনভাবেই তুলনীয় নয়।

তবে ধীরে ধীরে স্ত্রীর প্রতি তার এ ভালোবাসার কথা ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ নতুন এ তাজমহল দেখতে ভিড় করে দেবাই তহসিলের কাসের কালান গ্রামে। সেইসঙ্গে স্মরণ করে ৩৫২ বছর আগের মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর ভালোবাসার কীর্তিও। তাদের কাছে ফয়জুল হাসানও হয়ে ওঠেন আরেক শাহজাহান।

স্ত্রীর প্রতি অতুলনীয় ভালোবাসা থেকে এ কাজ শুরু করলেও শেষপর্যন্ত পুরোটা শেষ করে যেতে পারেননি তিনি। ৮৩ বছর বয়সে লাঠিতে ভর দিয়ে কাজ করে যেতেন। শেষ সম্বল দুই লাখ টাকা দিয়ে জয়পুর থেকে মার্বেল পাথর আনাবেন বলে মনস্থির করেছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হলো না। প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবারও কাজে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পথে একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি ফয়জুলকে। শুক্রবার তিনি মারা যান।

সংবাদমাধ্যমকে স্বজনরা জানিয়েছেন, ফয়জুল হাসানের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার তাজমহলে স্ত্রী তাজমুল্লি বেগমের পাশেই সমাহিত করা হবে তাকে। মিনি তাজমহলের বাকি কাজও তারাই সম্পন্ন করবেন।

ফয়জুল হাসানের এই তাজমহল নির্মাণের কথা শুনে তখনকার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব ডেকে পাঠান তাকে। তিনি এ মিনি তাজমহলের বাকি কাজ শেষ করার জন্য টাকা দিতে চাইলে বিনীতভাবে তা নিতে অস্বীকার করেন ফয়জুল।

তিনি বলেন, নিজের চেষ্টাতেই এ তাজমহল করবেন। বরং ওই টাকা দিয়ে গ্রামে মেয়েদের জন্য একটি কলেজ করে দিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। অখিলেশ যাদব তার কথার প্রতি সম্মান জানিয়ে গ্রামে একটি কলেজ করে দেন। কলেজের জন্য কিছু জমিও দেন ফয়জুল। তার কল্যাণে গ্রামের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার দ্বারও খুলে গেল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত