শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফের ফিরছেন সৌম্য... এবার?

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৪৪ পিএম

প্রতিভাবান খুব। ব্যাটিং স্টাইল সৌন্দর্যময়। ব্যাটে আছে রোমাঞ্চ জাগানো আগ্রাসন। তার খেলা মন ভরায়। সবই ঠিক আছে। কেবল নেই ধারাবাহিকতা। ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন সুপারস্টার বনে গেলেও সৌম্য সরকার মুদ্রার সব পিঠই দেখে ফেলেছেন। অবশ্য বারবার বাদ পড়ে ফেরার গল্প লেখার ধারাবাহিকতা ঠিকই আছে তার। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- ১৩ মাস পর আবার টেস্টে ফিরে পুরানো গল্পেরই পুনরাবৃত্তি করবেন না তো?

বালাই ষাট। সৌম্যভক্ত ও টাইগারপ্রেমীদের মনে এই কথা এখন। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট শুরু বৃহস্পতিবার। শুরু থেকেই দলে ওপেনার দুজন। ইমরুল কায়েস ও সৌম্য। অনভিষিক্ত সাদমান ইসলাম দলে ঢুকেছেন পরে। নিশ্চিতভাবেই সৌম্য আবার ফিরছেন টেস্টের সাদা পোশাকে। সেই ফেরাটা এবার তার ছোট ও বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেই। তাই তার উপর আশার চোখ থাকছে আরেকটু বেশি। যদিও পেছনের অধারাবাহিকতার কারণে শঙ্কার দোলাচলটা সৌম্যর ব্যাটিংয়ের সাথেই পেণ্ডুলামের মতো ঝুলবে।

২০১৭ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শেষ টেস্টে খেলার পর আর পাঁচ দিনের ক্রিকেটে সুযোগ হয়নি সৌম্যর। এরপর এই বছর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার সাথে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এবং ফের ঘরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু দলেই ছিলেন না সৌম্য। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময়ই ছিলেন নড়বড়ে। এরপর হঠাৎ সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে ডাক পেলেও পারফর্ম বরতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে কোনো দলেই ছিলেন না। পরে শেষ ওয়ানডে খেলার ডাক পেয়ে ৯২ বলে ১১৭ রানের ইনিংস খেলেন দাপটে। ম্যাচ জিতিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জিতেছিলেন।

এরপর ঘরোয়া ফার্স্ট ক্লাস জাতীয় লিগে সেঞ্চুরি করেছেন। খেলেছেন দলে ভূমিকা রাখা আরও কয়েকটি ইনিংস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সীমিত ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্ধর্ষ সেঞ্চুরি করে বিসিবি একাদশকে জিতিয়েছেন দলনায়ক হিসেবে। কিন্তু টেস্টে ছিলেন না। তামিম ইকবালের ইনজুরি আর লিটন দাসের ছিটকে পড়া সৌম্যর জন্য ভাগ্যদেবীর আশির্বাদের মতো হয়ে গেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দলে সৌম্য।

টেস্টের আগে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচটাও খেললেন। ক্যারিবীয় পেসারদের ঠেঙিয়ে একমাত্র ইনিংসে দলীয় সর্বোচ্চ ৭৮ রানও এই বাঁহাতি ড্যাশিং ওপেনারের। এখন আবার ড্যাশিংই লাগছে তাকে। অবশ্য আগেও এমন ভাবমূর্তি নিয়ে টেস্টে নেমে এখনো বাংলাদেশের অন্যতম ব্যর্থ ওপেনার সৌম্য। ২০১৫ থেকে এই পর্যন্ত ১০ টেস্টে ১৯ ইনিংসে রান ৫৫৮। ফিফটি ৪টি। সেঞ্চুরি নেই। সর্বোচ্চ ৮৪। গড় ৩০ ছুঁই ছুঁই।

ইতিহাস চোখ রাঙাচ্ছে। বলছে, এই ফেরার পরও সৌম্যর ব্যাট আগের মতো চললে পরিণতিও বদলাবে না। সৌম্য নিশ্চয়ই তা খুব জানেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত