শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রকাশ্যে এরশাদ, তিনশ’ আসনে জাপার মনোনয়ন

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:৪৬ পিএম

রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে আড়ালে চলে যাওয়া জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এসেছেন। গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেবেন বলে জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ সিএমএইচে ভর্তি। সেখান থেকে শনিবার ছাড়া পেয়ে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি আড়ালে চলে যান। এনিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার তিনি প্রকাশ্যে আসেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও এইচএম এরশাদের সিএমএইচে ভর্তি ছিল দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়।

২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগপ্রধান মহাজোট ছাড়েন। নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু পরের মাসে নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে আবার নির্বাচনকালীন সরকার থেকে দলীয় মন্ত্রীদের পদত্যাগ করে ভোট বর্জনের নির্দেশ দেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

বিএনপি, জামায়াত ও সিপিবিসহ অনেক দল দশম জাতীয় সংসদে অংশ না নেওয়ার ডামাডোলের মধ্যে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক বাসভবন থেকে সিএমএইচে ভর্তি হন এইচএম এরশাদ। তার অনুপস্থিতিতে জাপার একাংশ রওশন এরশাদের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেয়।

দশম সংসদ নির্বাচনে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে চাইলেও তা পারেননি নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট এরশাদ। তিনি রংপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন শেষে ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিএমএইচ থেকে সরাসারি বঙ্গভবনে হাজির হন এরশাদ। তিনি এ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পান। তার দল সংসদে প্রধান বিরোধী দল হয়।

এর আগে ২০০৬ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের চাপের মুখে আত্মগোপনে যান এইচএম এরশাদ। বেশ কিছুদিন পর তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে সরাসরি পল্টন ময়দানে এসে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটে থাকার ঘোষণা দেন। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট সরকার গঠন করে।

মঙ্গলবার সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে সাবেক এ সেনাপ্রধান বলেন, “এখনও আমার নামে মামলা চলছে। মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। এত বছরে একটা দিনও শান্তিতে ছিলাম না। এই মামলার ভার মাথায় নিয়ে আমি দলের নেতৃত্ব দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “আমার চেয়ে কেউ বেশি কষ্ট করে নাই। আমি সাড়ে সাত বছর জেলে ছিলাম। অনেক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে।”

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “আল্লাহ সুযোগ দিয়েছেন আমাদের। আমাদের তো বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা। এখন দুটি দল মাত্র, আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টি।”

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে এরশাদ একশ’ আসন চেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজি হয়নি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে জাপা’র মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সোমবার সন্ধ্যায়। এরশাদ আড়ালে চলে যাওয়ার পর সে বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। ওবায়দুল কাদের পরে সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ জোটসঙ্গীদের ৬০-৭০টি আসন ছাড়তে রাজি আছে।

এরপর মঙ্গলবার গুলশানে প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানান এরশাদ। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কারণে অন্য জোটে যেতে হলে এর সিদ্ধান্ত আমি নেব। দেশ, পার্টি ও নেতাকর্মীদের স্বার্থ বিবেচনা করে ভোট ও জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেব।”

গত ১১ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। চলে পাঁচ দিন। মনোনয়নপ্রত্যাশী ২ হাজার ৮৬৫ জনের ফরম যাচাই-বাছাই করে ৭৮০ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয় গুলশানের কার্যালয়ে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত