সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পুরনোর শ্রেষ্ঠত্ব না নতুনের কেতন?

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:০৪ পিএম

এবারের ফেডারেশন কাপের গুরুত্ব বেড়ে গিয়েছিল শুরুর আগেই। কারণ এই আসরের শিরোপা জিতলেই যে মিলবে এএফসি কাপের টিকিট। মর্যাদার এএফসি কাপে নাম লেখানোর শেষ সিঁড়িতে পৌঁছেছে শিরোপাধারী আবাহনী লিমিটেড ও নবাগত বসুন্ধরা কিংস। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুক্রবার ফাইনালে দু’দলের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে কার হাতে উড়বে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের পতাকা।

এনিয়ে ১৮তম বারের মতো ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠে এসেছে আবাহনী। এর মধ্যে শিরোপা ছুঁয়েছে রেকর্ড ১০বার। মোহামেডানের শো-কেসেও আছে ফেডারেশন কাপের ১০টি শিরোপা। শুক্রবার তাই আবাহনীর সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়ার সুযোগ। যে রেকর্ডে থাকবে শুধু একার অধিকার। রেকর্ডের সুযোগ আছে আরো একটা। ফাইনালে জিতলেই টানা ফেডারেশন কাপ জয়ের হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিকও হয়ে যাবে আকাশী-হলুদদের।

এত এত হাতছানি। তারপরও কি নির্ভার থাকতে পারছেন দেশজুড়ে আবাহনীর অসংখ্য সমর্থক? প্রতিপক্ষ যে ঢাকার ফুটবলের নবশক্তি হিসেবে আবির্ভূত বসুন্ধরা কিংস। সর্বশেষ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের শিরোপা জিতে তাদের নাম উঠেছে পেশাদার ফুটবলের অভিজাত তালিকায়। অভিষেকটা রাঙাতে চেষ্টার কমতি নেই দেশের অন্যতম বৃহত্তর শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন এই ক্লাবের। কাড়িকাড়ি টাকা দিয়ে যেমন স্থানীয় ফুটবলার সংগ্রহ করেছে তারা, বিনিয়োগে কুণ্ঠা ছিল না বিদেশি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও। এইতো মাস পাঁচেক আগে কোস্টারিকার হয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা প্লে-মেকার দানিয়েল কলিনদ্রেসের সঙ্গে চুক্তি করে হইচই ফেলে দিয়েছিল ক্লাবটি। কলিনদ্রেসও নিজের জাত ঠিকই চিনিয়ে যাচ্ছেন প্রতি ম্যাচে।

ধারে-ভারে বসুন্ধরা খানিকটা এগিয়ে থাকলেই শুক্রবার আবাহনীকে তেমন পিছিয়ে রাখার জো নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ঐতিহ্যবাহী দলটিকে এগিয়ে রাখতেও বাধ্য সবাই। এই দল ছয়বার লিগ শিরোপা জিতে নিজেদের যে স্তরে নিয়ে গেছে, সেখানে পৌঁছতে অন্যদের পোড়াতে হবে অনেক কাঠখড়। তাছাড়া দলবদলের হাটে বসুন্ধরার বিস্ফোরণেও আবাহনী কিন্তু খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মিডফিল্ডার ইমন মাহমুদ বাবু এবং ডিফেন্ডার নাসিরউদ্দিন চৌধুরীকেই কেবল আবাহনী থেকে নিতে পেরেছিল বসুন্ধরা।

আবাহনীর অন্তবর্তীকালীন কোচ জাকারিয়া বাবুর বিশ্বাস, ফাইনালের ভাগ্য সহায় হবে ঐতিহ্যের, “কালকের (শুক্রবার) ফাইনালের জন্য আমরা প্রস্তুত। স্বাভাবিক নিয়মে আবাহনী আবাহনীর জায়গায় (ফাইনালে) চলে এসেছে। আশা করি, গত দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে।”

কলিনদ্রেস আছেন, আছেন জাতীয় দলের অ্যাটাকিং ত্রয়ী- তৌহিদুল আলম সবুজ, মাহবুবুর রহমান সুফিল এবং মতিন মিয়া। তারপরও জাকারিয়া খুব আলাদা চোখে দেখতে চাইছেন না বসুন্ধরাকে, “ফাইনালে অন্য দলের মতো বসুন্ধরাকে একই প্রতিপক্ষ ভাবছি। আলাদাভাবে চিন্তা করছি না। স্বাভাবিক নিয়মেই আমরা খেলবো। আমার কারো প্রতি কোনো বাড়তি নজর নেই। আগের ম্যাচগুলোতে আমার খেলোয়াড়রা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, ফাইনালেও সেটা করতে পারবে আশা করি।”

নিজের ১১ জন যোদ্ধাকেই সমমূল্যায়িত করে জাকারিয়া যেন শিষ্যদের চাপ কিছুটা কমাতে চাইলেন বৃহস্পতিবার আয়োজিত প্রি-ফাইনাল সংবাদ সম্মেলনে, “আমার কোনো ট্রাম্পকার্ড নেই। ১১ জন খেলোয়াড়ই আমার ট্রাম্পকার্ড।”

বসুন্ধরার কলিনদ্রেসের চেয়েও নিজ দলের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবাকে এগিয়ে রাখছেন জাকারিয়া। এই পরীক্ষিত সৈনিকের হ্যাটট্রিকেই সেমিফাইনালে শেখ জামালকে হারিয়েছিল তার দল।

“আমি দুজনের মধ্যে সানডেকেই এগিয়ে রাখবো। আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্থি হচ্ছে সানডে দারুণভাবে গোলে ফিরেছে। গত দুই ম্যাচে গোল করে সে দারুণভাবে সহায়তা করেছে দলকে।”

ইতিহাসের ১১তম দল হিসেবে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠা বসুন্ধরার রণপরিকল্পনা সাজাতে আছেন স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন। মহালড়াইয়ের আগে পাছে কোনো পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়, তাই হয়তো সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে গেলেন এই কোচ!

সহকারী কোচ আবু ফয়সাল যেন শেখানো বুলি আওড়ে গেলেন, “বসুন্ধরা কিংসের একটাই স্লোগান, সেটা হলো- বল ফর বিট। আমাদের লক্ষ্যই ছিল চ্যাম্পিয়ন হবো। গ্রুপপর্ব থেকে ভালো খেলার চেষ্টা করেছি। গ্রুপে দুটি ম্যাচে সমস্যা হলেও আমরা এখন ফাইনালে উঠেছি। ভালো খেলে ঢাকা আবাহনীর মতো জায়ান্ট দলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।”

তাহলে? পুরনোর শ্রেষ্ঠত্ব না নতুনের কেতন- ফেডারেশন কাপ এবার কী দেখবে?

যেভাবে ফাইনালে

আবাহনী

গ্রুপপর্ব: আবহনী ১-০ মুক্তিযোদ্ধা, আবাহনী ০-১ শেখ রাসেল।

কোয়ার্টার ফাইনাল: আবাহনী ৩-২ আরামবাগ, সেমিফাইনাল: আবাহনী ৪-২ শেখ জামাল।

বসুন্ধরা কিংস

গ্রুপপর্ব: বসুন্ধরা ৫-২ মোহামেডান, বসুন্ধরা ১-১ শেখ জামাল, বসুন্ধরা ১-১ নোফেল।

কোয়ার্টার ফাইনাল: বসুন্ধরা ৫-১ টিম বিজেএমসি, সেমিফাইনাল: বসুন্ধরা ১-০ শেখ রাসেল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত