শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মালদ্বীপের নাশিদের ১৩ বছরের সাজা বাতিল

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:০০ পিএম

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের ১৩ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছে আদালত। তার বিরুদ্ধে আনা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুনর্বিবেচনার পর এমন রায় আসে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট থেকে। 

রায়ের পর নাশিদের আইনজীবী হুসান হুসেইন বলেন, “পুরো বিচার প্রক্রিয়া সাজানো ছিল। রাজনৈতিক কারণে এ সাজা দেওয়া হয়েছিল।”

আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে সম্প্রতি মালদ্বীপ ফিরেছেন নাশিদ। ২০০৮ সালে দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তিনি। ২০১২ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে ফৌজদারি আদালতের প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন তিনি।

ওই সময় এক পুলিশ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন নাশিদ। পরের বছরই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশ। ২০১৫ সালে ১৩ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয় মালদ্বীপের অপরাধবিষয়ক একটি আদালত।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ৫১ বছর বয়সী নাশিদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে দণ্ড দেওয়া উচিত হয়নি।

কারাদণ্ডাদেশ থেকে রেহাই পাওয়ার পর নাশিদ মালদ্বীপের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

আইনজীবী হুসান বলেন, “অন্যায়ভাবে একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে এক বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে, ৩৫ মাস স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকতে হয়েছে। সেই সঙ্গে পুরো সময়টা রাজনৈতিক অফিস থেকেও তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়।”   

দেশটির সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মেদ সালেহ দায়িত্ব গ্রহণের দশদিন পর সুপ্রিম কোর্ট এ রায় দিল। সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন পরাজিত হন। ২০১৩ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় আসেন ইয়ামিন। তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

২০১৫ সালে নাশিদের এই দণ্ডাদেশ যথাযথ হয়নি বলে ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ। ওই সময় দেশটির উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বিরোধীপক্ষের কয়েকশ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে ইয়ামিন সরকার। তখন থেকে সাম্প্রতিক নির্বাচন পর্যন্ত বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রধান নেতারা আটক হন নয়তো দেশ ছেড়ে চলে যান। ২০১৬ সালে নাশিদও যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন, ওই সময় তিনি চিকিৎসার জন্য সাময়িক মুক্তি পান।   

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত