শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বউ-শাশুড়ির ঝগড়ার কবলে বিখ্যাত উপন্যাস

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:১৪ পিএম

ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের একঘেয়েমি নিয়ে অভিযোগ বেশ পুরনো। বেশির ভাগ নাটকই বউ-শাশুড়ির ঝগড়া দেখিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিখ্যাত উপন্যাস নিয়ে নির্মিত সিরিয়ালকেও একই ফর্মুলায় ফেলা হচ্ছে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়- সংযোজনের ফলে কাহিনী কি হারিয়ে ফেলছে মূল সুর?

ওই প্রতিবেদনে কিছু উদাহরণ দেওয়া হয়। যেমন; আশাপূর্ণা দেবীর ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ধারাবাহিকে দেখানো হয়েছে, বালিকাবধূ সত্যবতী শাশুড়ি এলোকেশীর রক্তচক্ষু এড়িয়ে প্রতিমা গড়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে শাশুড়ি মূর্তি বিসর্জনের জন্য আদেশ দেন, কিন্তু শত চেষ্টাতেও প্রতিমাকে একচুল নড়ানো যায় না।

অথচ উপন্যাসে এমন কিছুই তো ছিল না! পুরোপুরি বদলে গেছে এলোকেশী। চরিত্রটি কি এতটাই দজ্জাল ছিল যে, পুত্রবধূর প্রাণসংশয়ের কারণ হয়ে উঠেছিল? কেউ কেউ বলছেন, আশাপূর্ণা দেবীর গল্পে এমন পরিবর্তন বেশ বেমানান।

তবে প্রযোজক রানা সরকার বলেন, “কোনো টেক্সটকে মেগা সিরিয়ালে দেখাতে গেলে অদলবদল করতেই হয়। উপন্যাসে সত্যবতীর করা কাজের চারটা উদাহরণ থাকলে, আমরা সে রকম আরও তিনটা ঘটনা জুড়তে পারি। তা বলে সত্যবতীর গোটা চরিত্রটাকেই বদলে দিতে পারি না।”

আরও জানান, সিরিয়ালটি দু’ধরনেরই ফিডব্যাক পাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দর্শক এই পরিবর্তনকে উপভোগ করছেন। আর যারা রক্ষণশীল মানসিকতার, তারা আপত্তি করছেন।

এদিকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘দেবী চৌধুরানী’ অবলম্বনে ধারাবাহিক নিয়েও বিচলিত অনেকে। যেখানে মুখ্য চরিত্র প্রফুল্লর শ্বশুর হরবল্লভবাবুকে পুরোপুরি ভিলেন বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়, যারা বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও পারিবারিক অশান্তির বাইরে গিয়ে নতুন কিছু দেখতে চান, তারা ঠকে যাচ্ছেন না তো? বাংলা সাহিত্যেরও কি ক্ষতি হচ্ছে না?

সাহিত্যিক স্মরণজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ক্ষতি তো হচ্ছে! অনেকেই আছেন যারা ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ বা ‘দেবী চৌধুরানী’ বা বাংলা সাহিত্যের সেরা উপন্যাসগুলির নাম শুনেছেন। জানেন কতটা বিখ্যাত। হয়তো কোনোভাবে পড়া হয়ে ওঠেনি। বিশেষ করে এখন তো মানুষের পড়ার অভ্যাস কমে গিয়েছে। আর তারা যখন দেখবেন সেই সব গল্পও কূটকচালিতে ভর্তি, তখন ওই লেখকের আর কোনো বই পড়ার উৎসাহ পাবেন কি? হয়তো নাক সিঁটকে বলবেন, এ মা! এই লিখেছে! এই নিয়ে এত মাতামাতি।”

বেশ আগে এক সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা ভট্টাচার্য বলেছিলেন, তার উপন্যাস ‘কাছের মানুষ’ সিরিয়ালে যেভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল, তাতে মোটেও খুশি হননি। অবশ্য সব নির্মাতাকে এক ছাঁচে ফেলা যায় না। তবে আশাপূর্ণা দেবীর উপন্যাস ‘সুবর্ণলতা’র প্রবোধ ওরফে বিশ্বনাথ বসু বলেন, ‘‘উপন্যাসকে সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করেই ‘সুবর্ণলতা’ হয়েছিল। টিআরপি-র অসুবিধা তো হয়নি!’’

এদিকে সামনে শুরু হচ্ছে সমরেশ মজুমদারের ‘সাতকাহন’ নিয়ে ধারাবাহিক। লেখক জানান, প্রায় ত্রিশ বছর আগে লেখা উপন্যাস নিয়ে এই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধারাবাহিক করতে গেলে কিছু তো বদলাতে হবে। আর বদলটা লেখকই বলে দিচ্ছেন চিত্রনাট্যকারকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত