রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাংলাদেশে ভোটঝাপ্টা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৬ পিএম

যারা উপমহাদেশের সাধারণ নির্বাচনগুলোর খবর রাখেন তারা বাংলাদেশের খবরে কাঁপুনির শিকার হতে পারেন। শেখ হাসিনা ওয়াজেদের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে যে মাত্রার নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন তা তার দলের বড় ধরনের বিজয়ের অনুমান যারা করেছিল তাদেরও বিস্মিত করেছে। ২৮৮টি আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ তার বিরোধী জোটকে প্রায় গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গত রবিবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত আছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রভূত অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে শক্তিশালী চীনের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক শিল্পের রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। অবশ্য বিরোধীরা এবং কিছু স্বাধীন বিশ্লেষক অভিযোগ করেন যে, শোষণ বেড়েছে এবং মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সাধারণ অর্থে যে উন্নয়নের ধারণা আছে তার প্রাধিকার নিশ্চিত হওয়ায় এই বিষয়টি গুরুত্ব হারিয়েছে। তাই অনেকেরই ধারণা, অর্থনৈতিক এই পালাবদলই আওয়ামী লীগের এই বিস্ময়কর নির্বাচনী ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য রাষ্ট্রগুলোর মতো এই দেশটিতেও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। প্রধানমন্ত্রীকে একটি যুদ্ধাবস্থার মধ্যে এগোতে হবে, কেননা তার দেশে বিদ্বেষপূর্ণ এবং গভীরভাবে বিভাজিত রাজনীতি বিদ্যমান। বিরোধী দলের সদস্যদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে, অনেক নেতৃত্বকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো মারাত্মক অভিযোগে কারাদ- দেওয়া হয়েছে।

এমনকি প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াও কারাবাস করছেন। তিনি চার বছর আগের নির্বাচন বর্জন করেছিলেন এবং এবার বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। শুধুমাত্র ছায়া নেতৃত্ব হিসেবে থাকতে পেরেছেন। শুধু তাই নয়, এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়াতেও যথেষ্ট অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। বিরোধীদের একটা বড় অংশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রচারণা দমনের অভিপ্রায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এত কিছু সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে একটি নিয়ন্ত্রিত এবং দমনমূলক গণতন্ত্রের কাঠামোও নেতৃত্ব অব্যাহত রাখতে পারে। বাংলাদেশে সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যার জন্য অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। যদিও জাতীয় নির্বাচনের পরিসংখ্যান একটি মারাত্মক বিভেদের ইঙ্গিত দেয়, তারপরেও আশা করা যায় বাংলাদেশ এই ধরনের সংঘাতকে এড়াতে পারবে যা তার উন্নয়নের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বাংলাদেশে সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যার জন্য অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। যদিও জাতীয় নির্বাচনের পরিসংখ্যান একটি মারাত্মক বিভেদের ইঙ্গিত দেয়, তারপরেও আশা করা যায় বাংলাদেশ এই ধরনের সংঘাতকে এড়াতে পারবে যা তার উন্নয়নের জন্য হুমকিস্বরূপ।

সম্পাদকীয় দ্য ডন

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত