রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

লবণ চাষের ধুম

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:১৫ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের লবণ উৎপাদনের কাজে চাষিদের ব্যস্ত সময় কাটছে। তারা দিনের পুরোটা সময় ব্যয় করছেন লবণ তৈরির মাঠে। চিংড়ি ঘের গুটিয়ে লবণ মাঠ তৈরি করছেন তারা। গত কয়েক বছরে পরীক্ষামূলক লবণ চাষে সাফল্যকে পুঁজি করে এ বছরও চাষিরা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, আনোয়ারায় প্রায় ১৫০ একর মাঠজুড়ে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছেন অর্ধশতাধিক চাষি। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা অবধি চাষিরা মাঠে কাজ করছেন। উপজেলার উপকূলীয় দুই ইউনিয়ন রায়পুরের দক্ষিণ গহিরা ও বারশতের পারকি এলাকায় লবণ চাষ হচ্ছে। এখানে আগে তেমন জনপ্রিয় ছিল না লবণ চাষ। কয়েক বছর ধরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার চাষিরা আনোয়ারা উপকূলে লবণ উৎপাদন শুরু করেন। কম খরচে উৎপাদন ভালো হওয়ায় দিন দিন লবণ চাষে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের।

তবে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের জন্য গত বছরের তুলনায় এ বছর লবণ চাষ কমেছে প্রায় দ্বিগুণ। গেল মৌসুমে সেখানে লবণ চাষ হয়েছিল ২০০ থেকে ২৫০ একর জমিতে।

লবণচাষিরা জানান, লবণ চাষের জন্য প্রথমে জমিকে ছোট ছোট ভাগ করে নেওয়া হয়। এরপর ভেজা মাটিকে রোলার দিয়ে সমান করে বিছিয়ে দেওয়া হয় মোটা পলিথিন। জোয়ার এলেই মাঠের মাঝখানে তৈরি করা গর্তে জমানো হয় সাগরের লবণ পানি। বালতি ভরে বিছানো পলিথিনের ওপর রাখা হয় পানি। জলীয় বাষ্প হয়ে উড়ে যায় পানি আর মাঠে জমে যায় লবণের আস্তরণ। সেই লবণ তুলে স্তূপ করে রাখা হয় যেন সরে যায় পানি। এরপরই বস্তায় ভরে লবণ তুলে দেওয়া হয় বেপারীর হাতে। চাষিরা আধুনিক (পলিথিন) ও সনাতন পদ্ধতিতে মাঠে লবণ চাষ করছেন।

কুতুবদিয়া থেকে আসা চাষি কামাল উদ্দিন জানান, ‘প্রতি মৌসুমের জন্য কানিপ্রতি (৪০ শতক) জমি ৩ হাজার টাকায় লাগিয়ত (বর্গা) নিই। প্রতি কানিতে চাষাবাদে খরচ পড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় খরচের দ্বিগুণ।’

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এসব এলাকায় উৎপাদিত লবণ রপ্তানিতে সহযোগিতা করে তাহলে লবণচাষিরা আরও বেশি উপকৃত হবেন।

বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ দেশ রূপান্তরকে জানান, পারকি এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে লবণ চাষ। কম খরচে লাভ বেশি, তাই স্থানীয়রাও লবণ চাষে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও পাঁচ মাস লবণ উৎপাদন হবে। শেষ পর্যন্ত লবণের বর্তমান দাম অব্যাহত থাকলে লবণচাষিরা তাদের পরিশ্রমের সুফল পাবেন বলে আশা করেন তিনি। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত