রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফের লাশ পড়ল পাহাড়ে

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:৫৯ পিএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নৌকার পক্ষে’ কাজ করায় নিজেদের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)। রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে শুক্রবার সন্ধ্যায় বসু চাকমা(৪০) নামে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত সমিতির ওই কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নিহত বসু চাকমার বাড়ি বাঘাইছড়ির খেদারমারা এলাকায়। নিহত ব্যক্তির লাশের পাশে ১টি একনলা বন্দুক, ১ টি পিস্তল, পিস্তলের গুলি ২ রাউন্ড, ০৯টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সন্ধ্যায় খেদারামারায় পারিবারিক শ্মশানে বসু চাকমার শেষ কৃত্য সম্পন্ন হবে।

জেএসএস (এমএন লারমা) এর তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে নৌকা প্রতীকের সমর্থনে কাজ করেছি। কিন্তু সন্তু লারমার জেএসএস সিংহ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে ইউপিডিএফ তাদের সমর্থন দেয়। নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এই দু’টি গ্রুপ এক হয়ে কিংবা দুই গ্রুপের যেকোনো একটি গ্রুপ এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছি।’ তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।

ইউপিডিএফ এর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেছেন, ‘তারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে মজা করার সময় নিজেদের মধ্যে কোন ঝামেলার কারণে এই হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। বাবুপাড়া তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা। সেখানে আমাদের কোন লোকজন নেই। আমাদের দায়ী কেন করছে আমরা জানি না। এই ঘটনার সঙ্গে কোন ভাবেই আমরা জড়িত না।

বাঘাইছড়ি থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক হিরো বড়ুয়া জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলা সদরের বাবুপাড়া কমিউনিটি সেন্টারের পাশে জনৈক জ্যোতি প্রভা চাকমার বাড়িতে রাতের খাবার খাওয়ার সময় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে তাকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি বলেন, শেষ কৃত্য সম্পন্নের পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হতে পারে।

 

প্রসঙ্গত, বাঘাইছড়ি উপজেলায় জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান আছে। তারা এই নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সরাসরি কাজ করে, ফলে নৌকা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভোট পায় এবং বিজয়ী হয়। এই উপজেলায় আঞ্চলিক চারটি দলেরই কমবেশি শক্ত অবস্থান আছে। ফলে আয়তনে দেশের সবচে বড় এই উপজেলায় সব সময় সংঘাত লেগেই থাকে।

এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি ও প্রসীত খীসার ইউপিডিএফ দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে কাছাকাছি এবং দুই দল পৃথক দুই জেলায় প্রার্থী ঘোষণা করে পরস্পরের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দিয়ে প্রচারণায় অংশ নেয়। বিপরীতে তাদের দুই দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল গঠন করা জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নৌকার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করে। ফলে নির্বাচনের সময়ই ধারণা করা হয়েছিল যে, নির্বাচনের পর এর প্রভাব পড়বে পাহাড়ের ভ্রাতৃঘাতি জিঘাংসার রাজনীতিতে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত