বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চোখের জলেই সমুদ্র লোনা

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:০২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মাছের চাহিদার একটা বড় অংশই একা পূরণ করে নিউজিল্যান্ড। দেশটির অর্থনীতিতে সমুদ্র থেকে আহরিত মৎস্যশিল্পকে ‘শতভাগ শুদ্ধ’ বা বিতর্কমুক্ত বলা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শুস্টার ইনস্টিটিউট ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের সদস্যরা নিউজিল্যান্ডের মৎস্যশিল্পে অবর্ণনীয় অমানবিকতার বাস্তবচিত্র তুলে ধরে ‘দ্য ক্রুয়েলেস্ট ক্যাচ’ শিরোনামে রিপোর্ট করেছে।

রিপোর্টে উসরিল নামের এক ব্যক্তির জীবনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়। উসরিল ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি মাছ শিকার কোম্পানিতে মাসে ২৬০ ডলার বেতনে কাজ পান। কাজে যোগ দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই তার কাছ থেকে কমিশন বাবদ ২২৫ ডলার কেটে নেওয়া হয়। যে তাকে চাকরি পাইয়ে দেয় তাকে মাসে প্রাপ্ত বেতনের ৩০ শতাংশ দিয়ে দিতে হবে এমন চুক্তিপত্রেও স্বাক্ষর করতে হয় তাকে। এরপর মাছধরার জাহাজে উঠে তিনি জানতে পারলেন, প্রথম তিনমাস তাকে কোনো বেতনই দেওয়া হবে না। আর জাহাজ থেকে পালিয়ে গেলে তার পরিবারকে আরও সাড়ে তিন হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে।

উসরিলের মতো আরও অনেক ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার নামে মাছধরা জাহাজে নেওয়া হয়। আর সেখানে তারা শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হন নিয়মিত। এমনও অভিযোগ আছে, ঘুমন্ত অবস্থায় অথবা স্বাভাবিক কাজের সময়ও শাস্তি হিসেবে শ্রমিকদের যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয়।

শুস্টার জানায়, নিউজিল্যান্ডের সমুদ্রে ভাগ্যাহত এমন বহু শ্রমিকের দাসত্বের মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ড বছরে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা পালন করে নিউজিল্যান্ডের কাছ থেকে মাছ কিনতে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা সরাসরি নিউজিল্যান্ডের মাছ শিকারিদের কাছ থেকে মাছ কেনে না। তারা নিউজিল্যান্ডের সরকারি পাইকারি কেন্দ্র থেকে মাছ কেনে, আর ওই কেন্দ্রগুলো সরকারি চালানপত্র ছাড়াই গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছধরা ট্রলার থেকে মাছ কেনে। ফলে সমুদ্রবক্ষে শ্রমিক নির্যাতনের দায় এড়িয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

রিপোর্টে বলা হয়, মাছধরা ট্রলারগুলো কখনো সমুদ্রে টানা দুই থেকে তিনমাস অবস্থান করে। চাকরি দেওয়ার সময় দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের কথা বলা হলেও সমুদ্রে তাদের টানা ত্রিশ ঘণ্টাও কাজ করানো হয়। আর এজন্য ওই শ্রমিকদের দেওয়া হয় না কোনো বাড়তি মজুরি।

গত এক দশকে নিউজিল্যান্ড সরকার গভীর সমুদ্রে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধে কিছু মাছধরা কোম্পানিকে জরিমানাও করে। কিন্তু তাতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই মাছধরা কোম্পনিগুলো সমুদ্রের মধ্যেই শ্রমিকদের বিক্রি করে দেয় মানবপাচারকারীদের কাছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত