বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মন্ত্রিসভা আওয়ামী লীগের, সংসদ মহাজোটের

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৫ পিএম

৭ জানুয়ারি, সোমবার পড়ন্ত বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে। এই স্থানে এই পদে, এই শপথ তিনি পাঠ করলেন চতুর্থবারের মতো। প্রথম মেয়াদ শেষের আট বছর পর দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সেখান থেকেই বিরতিহীনভাবে তার যাত্রা শুরু হলো। টানা তৃতীয়বার এই শপথ নিয়ে গড়লেন নতুন ইতিহাস। সরকার পরিচালনা, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় গড়ে তোলা এবং দলকে সংগঠিত করার নানা অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা ও চিন্তাধারার সমৃদ্ধ ভান্ডার নিয়ে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য করে তুলতে পেরেছিলেন বলেই তার এমন ধারাবাহিক উত্তরণ। তিনি ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির প্রধান রূপকারে পরিণত হয়েছেন। এবার তিনি জাগরণের নতুন বাস্তবতায় দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে নিয়ে যেতে পেরেছেন।

আস্থার এমন অভাবনীয় জায়গায় নিজেকে উপস্থাপন করে তিনি গঠন করলেন নতুন মন্ত্রিসভা। অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিসম্পন্ন সদস্যদের এই মন্ত্রিসভায় স্থান দিলেন। সব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখে নতুন  ও অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে এবার তিনি গঠন করেছেন নতুন মন্ত্রিসভা। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই বলা যাবে না এখানে অভিজ্ঞরা নেই। বরং প্রবীণ, অপেক্ষাকৃত নবীন ও তরুণদের সমাবেশ ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এ মেয়াদের সরকারের যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন। চলার পথে প্রয়োজন দেখা দিলে মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ কারও আমন্ত্রণের ডাক পড়বে না এমনটি বলা যাবে না। সেই ব্যবস্থা তিনি তার হাতে রেখে দিয়েছেন।

যে কথাটি বিশেষভাবে এই মন্ত্রিসভা দেখে বলা প্রয়োজন, তা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা একান্তভাবেই আওয়ামী লীগ সদস্যদের নিয়ে গঠন করেছেন। এটিই তার প্রথম পুরোপুরি দলীয় মন্ত্রিসভা। আগের সবকটি মন্ত্রিসভাই ছিল অন্যান্য দল বা জোটের সদস্যদের নিয়ে। এবার মন্ত্রিসভার এমন চরিত্র দানের ব্যাখ্যা প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকে না দিলেও ধারণা করা হচ্ছে, দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতায় তিনি অনেক কিছুই পুরাতন কাঠামো বা ধাঁচে নয়, বরং নতুন কোনো ভিশন-মিশনকে সম্মুখে রেখেই ঢেলে সাজাতে চাচ্ছেন। এমনটি অবশ্য স্পষ্ট হবে আরও কিছু দিন পর। তবে শেখ হাসিনা তার দীর্ঘদিনের আদর্শিক মিত্রদের অসম্মান করবেন, অবদান রাখতে সুযোগ দেবেন না তেমনটি ভাববার কোনো কারণ আছে বলে মনে করি না। তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল একজন মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে শুরু থেকেই তার প্রমাণ দিয়ে আসছেন। সুতরাং, চট করে বা হুট করে তার অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। নিশ্চয়ই তার কোনো না কোনো পরিকল্পনা রয়েছে যা অদূর ভবিষ্যতে হয়তো দেখা যাবে।

শুধু ১৪ দল বা অন্যান্য দলের ব্যাপারেই নয়, নিজ দল আওয়ামী লীগের অভিজ্ঞ এবং পোড় খাওয়া নেতাদেরও তিনি বর্তমান মন্ত্রিসভায় না রেখে সরকার বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে বা দায়িত্বে হয়তো নেবেন। অভিজ্ঞ, মেধাবী এবং যোগ্য নেতা ১৪ দলের নেতাদের নিয়ে শেখ হাসিনার ভিশন-মিশন, কর্মপরিকল্পনা কিছুই থাকবে না এটি বোধ হয় মনে করার কারণ নেই। কেননা, শেখ হাসিনা ১৫ বছর দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের রাষ্ট্রের সর্বত্র বিরাজমান দুর্বলতা, পশ্চাৎপদতার সমস্যাসমূহ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। এই মেয়াদে সরকার পরিচালনায় শুধু মন্ত্রিসভা নয়, সংসদ, প্রশাসন ব্যবস্থা, মহাজোট, নাগরিক সমাজ, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক নানা পেশার সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিকে স্বয়ংক্রিভাবে সক্রিয় রাখা মোটেও সহজ কাজ হবে না।

উন্নয়ন ও পরিবর্তনের যে স্তরে আমরা এখন অবস্থান করছি সেটিকে ক্রমাগতভাবে এগিয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করার কঠিন চ্যালেঞ্জ আগামী পাঁচ বছর মোকাবিলা করেই তাকে অগ্রসর হতে হবে। সেখানে তার রাজনৈতিক মিত্রদের তিনি অবজ্ঞা করে চলার কোনো বাস্তবতা নেই। বরং ১৪ দলের সঙ্গে তার আদর্শিক ঐক্য অনেক বেশি সংহত। তিনি এই ঐক্যের অধিকতর সম্প্রসারণ ঘটাবেন না তাও বোধহয় ভাবা যায় না। মনে হচ্ছে তিনি বেশ বুঝে-শুনে, চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার সমৃদ্ধিকে সম্বল করেই তার চলার রাস্তা তৈরি করছেন, কৌশল নির্ধারণ করছেন, এক ধরনের আস্থা বিশ্বাসের উপাদান দেখিয়েই তিনি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুনভাবে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন।

এ কথা বলা মোটেও বাড়তি হবে না যদি বলি, বর্তমান মন্ত্রিসভায় যারা স্থান পেয়েছেন তারা এর মধ্যেই বুঝতে পেরেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন তাতে চুল পরিমাণ চিড় ধরার মতো কারণ ঘটলে তাদের কারোই পদে থাকার সুযোগ নাও থাকতে পারে। কেননা, অতীতে কোনো কোনো মন্ত্রীর কারণে তিনি বিব্রত ও বিরক্ত হয়েও সহ্য করেছেন পরিস্থিতির কারণে, এবার সেরূপ কিছু ঘটলে কপাল ভাঙতে মোটেও দেরি নাও হতে পারে। সুতরাং, মন্ত্রিসভায় যারা এবার স্থান পেয়েছেন তাদের দায়িত্বে গাফিলতি করে মন্ত্রিত্ব উপভোগ করার সুযোগ ঘটবে বলে মনে হয় না। তাদের স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ে কাজ দেখাতে হবে, সাফল্য বয়ে আনতে হবে। এখন কীভাবে তারা সফল হবেন সেই উপায় তাদের উদ্ভাবন করতে হবে।

বেশ ক’জন মন্ত্রী তো স্বপদেই আছেন। তাদের কাজ তারা ভালোভাবেই জানেন। সুতরাং, তাদের মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি নতুনভাবে শুরু হতে মোটেও দেরি হবে না। নতুন মন্ত্রীদের বেলাতে পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া অভিজ্ঞতাকে যাচাই-বাছাই করতে কতটা সময় লাগবে জানি না, তবে সরকারের ধারাবাহিকতার ফলে অনেক কিছুই চলমান আছে। সংস্কারের তাগিদ থাকলে সে সব বিবেচনায় নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে এখনই। দেরি করার সময় নেই। প্রয়োজন সব ধরনের তদবিরের সংস্কৃতি থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের দূরে থাকা, স্বজনদের ঘনিষ্ঠতা পরিহার করা, দুর্নীতি, অপচয়, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনাকে শুরু থেকেই টুঁটি চেপে ধরা। আমাদের সর্বক্ষেত্রে অপচয় ও দুর্নীতির রাশ টেনে ধরা গেলে দেশের উন্নয়নের গতিবেগ অনেকগুণ বৃদ্ধি পাওয়া মোটেও কাল্পনিক নয়, বরং খুবই বাস্তবভিত্তিক। সে কারণেই, নতুন মন্ত্রিসভার কাজ হবে দেশকে উন্নয়ন ও সুশাসন দিতে আইনানুগ প্রক্রিয়া উদ্ভাবন ও বাস্তবায়ন করা।

নতুন মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, তার পরিকল্পনা মোতাবেক দেশে এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি করুক যা দেখে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, উন্নত জীবন, সমাজ ও চিন্তাধারা গঠনের সুযোগ পায়। কেউ যেন না বলতে পারে এই মেয়াদে সরকার মানুষের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার সঙ্কুচিত করে ফেলেছে। আমরা জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অনেক দেশেই দেখেছি আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে উন্নয়নের নিজস্ব মডেল ও ধারা তৈরি করতে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এরই মধ্যে তেমন ধারণার বাস্তবতা সৃজন হয়েছে। প্রয়োজন এর একটি টেকসই রূপরেখা দাঁড় করানো। সেটি ২০১৯-২৩ মেয়াদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার দায়িত্ব যারা কাঁধে নিলেন তাদের সফল হতেই হবে, ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, ব্যক্তিগতভাবে কেউ না পারলে তাকে সরে যেতেই হবে। বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদ নানা প্রত্যাশা-নিরাশার অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই চলছে। এর কারণ ও বাস্তবতা মৌলিক গবেষণার দাবি রাখে। তবে এবার জাতীয় সংসদের রূপটি সম্ভবত এক সপ্তাহ আগে যেমনটি ভাবা হয়েছিল তার থেকে আলাদা রূপ নিতে যাচ্ছে। আমরা চাচ্ছি দেশের জাতীয় সংসদটি যথার্থ অর্থেই কার্যকর হোক, দেশে উন্নয়ন, সুশাসন, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের একটি নিজস্ব ধরন সৃষ্টি করতে সফল হোক।

মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট গত নির্বাচনে অনেকগুলো দল নিয়ে অংশগ্রহণ করে  বিজয়ী হয়ে এলেও এখন সংসদে তাদের অবস্থান সরকার ও বিরোধী দলে বসার একটি রূপ তৈরি হতে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি অবশেষে পুরোপুরি বিরোধী দলের অবয়ব নিয়ে বসতে যাচ্ছে, সরকারের মন্ত্রিসভায় তাদের এবার অবস্থান নেই। গত দুই সংসদে তাদের অবস্থান ও ভূমিকা তাদের জন্যও যথার্থ হয়নি। সরকারে এবং বিরোধী দলে একসঙ্গে থাকা যায় না, ভূমিকা রাখা যায় না। এটি যদি জাতীয় পার্টি বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে সংসদের ভূমিকা নতুন মাত্রা পেতে পারে। মনে হচ্ছে, সংসদ নেতা ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনাও চাচ্ছেন, জাতীয় পার্টি সরকারে না থেকে বিরোধী আসনেই থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিক।

একই সঙ্গে সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের উচিত হবে সংসদকে নতুন বাস্তবতায় ঢেলে সাজানো। সংসদীয় কমিটিগুলোকে কীভাবে কার্যকর করা সম্ভব হবে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। কমিটিগুলোর প্রধান দায়িত্ব যেন অভিজ্ঞদের দেওয়া হয়, সেগুলোতে কার্যপ্রণালী বিধির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে রোধ করার ব্যবস্থা যেন কার্যকর করা হয়। সংসদে ঐক্যফ্রন্টের ৭ জন সদস্য যদি আসেন তাদের মর্যাদা, ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রেও উদারতা প্রদর্শন সকলের কাছেই কাম্য। এখনো পর্যন্ত তাদের শপথ নেওয়া না নেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে। সবাই আশা করছেন তারা যেন এই সংসদে যোগদান করেন, ভূমিকা রাখেন।

পাশপাশি সবাই যে বিষয়টি আশা করছেন, তা হচ্ছে বর্তমান সংসদ থেকে সদস্যরা যাতে আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নির্বাচনী আসনে কাবিখা, রাস্তা তৈরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনে তাদের কর্তৃত্ব করার ভূমিকা যেন না থাকে। এই সংসদ থেকেই যেন স্থানীয় সরকারগুলো বিধি ও আইন মোতাবেক সচল হতে পারে, উন্নয়ন কর্মকান্ডে তারাই যেন নেতৃত্ব দেন সংসদ সদস্যরা নয় সেই চিত্র দেখতে চাই। যতক্ষণ পর্যন্ত তেমন পরিস্থিতি তৈরি না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সংসদ সদস্য, মন্ত্রীসহ সকলের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সৃষ্টি হবে না।

সুশাসনের জন্য এমন একটি অবস্থান তৈরি করতেই হবে। যে বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, তা হচ্ছে সরকার ও দলের মধ্যে সম্পর্ক নিরূপণ করা। দল যেন কোনো অবস্থাতেই সরকারে একাকার না হয়ে যায়। সে জন্য দলের অভিজ্ঞ নেতাদের তৃণমূল থেকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দল গোছানো খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশীয় নানা বাস্তবতায় দলে আদর্শবাদী, সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীর চাইতে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতা অস্বীকার করার উপায় নেই। কোনো স্তরেই আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক গতিতে বিকশিত হতে পারছে না। এর থেকে বের হওয়া খুবই জরুরি।

সুখের বিষয়, এবার নির্বাচনের আগে ও পরে দলের সর্বত্র নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি বিষয় বেশ আলোচিত হচ্ছে, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এখন আর দলের অভ্যন্তরে গ্রুপিং, অনিয়ম, দুর্নীতিবাজদের দেখতে চান না। এমন কথা বেশ উচ্চারিত হচ্ছে। এমন অনুকূল বাস্তবতাকে কাজে লাগাতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যদি দলীয় অভিজ্ঞ ও পোড় খাওয়া নেতাদের দায়িত্ব দেন, তাহলে আওয়ামী লীগ নতুনভাবে গড়ে উঠতে পারে। সেটিই ভীষণভাবে দরকার। আওয়ামী লীগকে নিয়ে যেন দলীয় প্রধানের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে না হয়, যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার নেতাকর্মী যেন দলটিতে যুক্ত হয়, জন্ম নেয় সেই ধারণাই সৃষ্টি করতে হবে। নতুবা ভবিষ্যতে দলের কিছু কিছু নেতাকর্মীর কারণেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। সুতরাং এখনই সময় ঘুরে দাঁড়ানোর।

দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এখন আর দলের অভ্যন্তরে গ্রুপিং, অনিয়ম, দুর্নীতিবাজদের দেখতে চান না। এমন কথা বেশ উচ্চারিত হচ্ছে। এমন অনুকূল বাস্তবতাকে কাজে লাগাতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যদি দলীয় অভিজ্ঞ ও পোড় খাওয়া নেতাদের দায়িত্ব দেন, তাহলে আওয়ামী লীগ নতুনভাবে গড়ে উঠতে পারে। সেটিই ভীষণভাবে দরকার। আওয়ামী লীগকে নিয়ে যেন দলীয় প্রধানের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে না হয়, যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার নেতাকর্মী যেন দলটিতে যুক্ত হয়, জন্ম নেয় সেই ধারণাই সৃষ্টি করতে হবে

লেখক

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত