বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তাসকিন নৈপুণ্যে সিলেটের প্রথম জয়

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:৪১ পিএম

ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে জাতীয় দলের জায়গা ধরে রাখতে পারেননি তাসকিন আহমেদ। বেশ কিছুদিন ধরেই ছিলেন দৃশ্যপটের বাইরে। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই আলো কাড়লেন সিলেট সিক্সার্সের বোলার। ৪ উইকেট শিকার করে দলকে উপহার দিলেন আসরের প্রথম জয়। ২ উইকেট নিয়ে যে জয়ে বড় ভূমিকা অলক কাপালিরও।

তাসকিনের বোলিং নৈপুণ্যে বুধবার চিটাগং ভাইকিংসকে ৫ রানে হারিয়েছে সিলেট। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান করে সিলেট। জবাবে ৭ উইকেটে ১৬৩ রানে থামে চিটাগংয়ের ইনিংস।

১৬৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা চিটাগং ইনিংসে বেশ ক’বার রং বদলাল। শুরুতে দারুণভাবে এগিয়ে চললেও তাসকিন ও অলক কাপালির বোলিংয়ে খেই হারায় দলটি। কিন্তু রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে বল হাতে চিটাগংকে জেতানো রবি ফ্রাইলিঙ্ক এদিন ব্যাট হাতে তাণ্ডব শুরু করলেন। শেষ ওভারে ২৪ রানের সমীকরণকে প্রায় সম্ভবই করে তুলছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য দুই ছক্কায় ফ্রাইলিঙ্ক তুলতে পেরেছেন ১৮ রান। আগের ওভারেও যিনি হাঁকান দুই ছক্কা। মিডল অর্ডারে ব্যর্থতার খেসারত দিয়ে তাই চিটাগংকে হারতে হয়েছে এ ম্যাচে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই মোহাম্মদ শাহজাদ শিকার হন তাসকিন আহমেদের। ওভারের দ্বিতীয় বলেই তাসকিনকে ছক্কা হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত ওই ৬ রান করেই ফিরতে হয় তাকে।

তবে ক্যামেরুন ডেলপোর্ট ও মোহাম্মদ আশরাফুল সেই ধাক্কা সামাল দেন দুর্দান্ত ভাবে। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে ৫৭ রান যোগ করেন। ৭.২ ওভারে দলের স্কোর নিয়ে যান ৬৩ রানে।

কিন্তু ৩৮ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন ডেলপোর্ট। ২২ বলে ৩ ছক্কা ও ৪ চারে নিজের ইনিংস সাজান তিনি। ছয় রানের ব্যবধানে ২২ রান করা মোহাম্মদ আশরাফুলকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন তাসকিন। আশরাফুল এদিন ২৩ বলে ৩ চারে ২২ রান করেন।

এরপর মুশফিকুর রহিম মাত্র ৫ রান করেই অলক কাপালির শিকার হন। ৭ রান করা মোসাদ্দেক হোসেনকেও অলক ফিরিয়ে দিলে ব্যাকফুটে পড়ে যায় চিটাগং।

তবে সিকান্দার রাজা ও ফ্রাইলিঙ্ক জুটি ভরসা দিচ্ছিল চিটাগাংকে। কিন্তু ১৮তম ওভারের শেষ দুই বলে সিকান্দার রাজা ও নাঈম হাসানের উইকেট তুলে নেন তাসকিন। রাজা ২৮ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ৩৭ রান করেন। নাঈম প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরেন।

তখন চিটাগং ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ফ্রাইলিঙ্ক শেষ ওভারেও রোমাঞ্চ ছড়ালেন। যদিও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি নিয়ে ফিরতে পারেননি তিনি।

এর আগে চরম হতাশার শুরু ছিল সিলেটের। মাত্র ৬ রানেই হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। লিটন দাস ০, নাসির হোসেন ৩ ও সাব্বির রহমান ০ করে ফেরেন। তবে ডেভিড ওয়ার্নার ও আফিফ হোসেন সেই বিপর্যয় সামাল দেন। গড়েন ৭১ রানের জুটি।

আফিফ খালেদের শিকার হওয়ার আগে করেন ৪৫ রান। তার ২৮ বলের ইনিংসে ছিল পাঁচ চার ও তিন ছক্কা।

ছয় নম্বরে নেমে নিকোলাস পোরান করেছেন ঝোড়ো ব্যাটিং। ৩২ বলে তিনটি করে ছয় ও চারে অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। ওয়ার্নার ৪৭ বলে দুই চার ও এক ছক্কায় করেন ৫৯ রান।

চিটাগংয়ের পক্ষে ফ্রাইলিঙ্ক সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। কার্যকরী ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচ সেরা হয়েছে সিলেটের নিকোলস পোরান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট সিক্সার্স : ১৬৮/৫ (২০ ওভার) (ওয়ার্নার ৫৯, আফিফ ৪৫, পোরান ৫২*; ফ্রাইলিঙ্ক ৩/২৬)

চিটাগং ভাইকিংস : ১৬৩/৭ (২০ ওভার) (ডেলপোর্ট ৩৮, আশরাফুল ২২, রাজা ৩৭, ফ্রাইলিঙ্ক ৪৪*; তাসকিন ৪/২৮, অলক ২/৬)।

ফল : সিলেট ৫ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : নিকোলাস পোরান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত