রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মামলায় অনীহা পরাজিত বিএনপি প্রার্থীদের

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৯ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপিসহ অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিএনপি-প্রধান জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার সিদ্ধান্ত নিলেও দলীয় প্রার্থীদের তাতে খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তারা বলছেন, এসব মামলার রায় হতে পাঁচ বছর কেটে যাবে; এগুলো করে কোনো লাভ হবে না।

‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়টি আইওয়াশ’ মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরবর্তী সংসদ না হওয়া পর্যন্ত এসব মামলার ফয়সালা হয় না। মামলা করে কেউ পক্ষে রায় পেয়েছে, এমন কোনো নজির জানা নেই।’

৩ জানুয়ারি সারা দেশের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও দলীয় প্রার্থীদের গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেকেছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেদিন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং মামলার জন্য নির্ধারিত ছকের একটি ফর্ম প্রার্থীদের সরবরাহ করা হয়। ২৯৯ আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী দিলেও ওই দিন হাজির হয়েছিলেন মাত্র ১৭৬ জন।

তার আগে প্রার্থীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ভোটে অনিয়ম-কারচুপির প্রমাণ, প্রতিটি কেন্দ্রের ‘অস্বাভাবিক’ ভোটের হিসাব, গ্রেপ্তার এজেন্ট ও নেতা-কর্মীদের তালিকা, সহিংসতায় আহত ও নিহতদের তালিকাসহ আটটি বিষয়ে তথ্যসহ একটি প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়। ভোট কারচুপির ভিডিও থাকলে তাও প্রতিবেদনের সঙ্গে দিতে বলা হয়।

মামলার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে মামলা করার বিষয়টি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত। কী হবে না হবে তা নিয়ে ভাবার চেয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা প্রার্থীদের দায়িত্ব।

এই ধরনের মামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি তুলে ধরলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মামলা করবেন বলে জানালেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে অনেক সময়ই পাঁচ বছর কেটে যায়। এর মধ্যেও কোনো ফয়সালা হয় না। বিষয়টি অনেকেরই জানা। তার পরও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মামলা করব। কে করবে কে করবে না বিষয়টি তার বিষয়। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত সবার মানা উচিত।’

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পাঁচজন এবং তাদের জোটের শরিক গণফোরামের দুজন নির্বাচিত হলেও তারা কেউ শপথ নিতে যাননি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে ২৫৭ আসন ও জোটগতভাবে ২৮৮ আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ জয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে। কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানোর পাশাপাশি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি জোট।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা এবং অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা মোকাবিলা করা এবং তাদের আগাম জামিন করানো নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। মামলার প্রস্তুতি নেননি এখনো।

সাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষে নির্বাচন করা ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের তেমন সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ তার কাছে নেই। সারা দেশে যা হয়েছে তার আসনেও তা-ই হয়েছে। ১০ জানুয়ারির মধ্যে প্রার্থীদের এসব তথ্যপ্রমাণ জমা দিতে বললেও তিনি পারেননি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বিরোধীদলীয় সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার নেতা-কর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। তাদের ছেড়ে ঢাকায় যাওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করা কিংবা নির্বাচনে অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করার মতো সময় তার নেই।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ও পরিচালক জনসংযোগ শাখা আসাদুজ্জামান আরজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যেতে হয়। ট্রাইব্যুনালে যেতে চাইলে অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে অভিযোগ দায়ের করতে হয়। এ বিষয়ে সমাধান করার জন্য হাইকোর্টের বেঞ্চ রয়েছে। সেখানে প্রার্থীদের আবেদন করতে হবে।

এসব মামলা কত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয় জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, এসব মামলা অনধিক ছয় মাসের মধ্য সমাধান করতে হয়।  তবে এটি বেঞ্চের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। বিষয়টি ঐচ্ছিক। এ কারণে সময় বেশি লাগে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত