বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী খাবার

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:১৪ এএম

ডায়াবেটিস রোগটি জীবাণুঘটিত বা ছোঁয়াচে নয়। মানবদেহে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস নামে একটি অঙ্গ রয়েছে। এই অঙ্গের প্রান্তীয় অংশে থাকা বিটা সেল নামক কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের অভাব হলে কিংবা ইনসুলিনের কার্যকারিতা হ্রাস পেলে ডায়াবেটিস রোগ হয়। ডায়াবেটিস নিরাময়যোগ্য নয়। অর্থাৎ একবার আক্রান্ত হলে এটি সারা জীবনের জন্য সঙ্গী হয়ে যায়। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণযোগ্য।  ডায়াবেটিক রোগীদের খাবারে গ্লুকোজ বা সুগারের পরিমাণ কম থাকতে হবে। এর পাশাপাশি তাদের খাবারে আরও কিছু জিনিস যেমন : ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আঁশ বা ফাইবার, ভিটামিন এ (ক্যারোটিনয়েডস), ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই থাকা জরুরি।

চলুন ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী কয়েকটি খাবারের কথা জেনে নিই-

গাঢ় সবুজ শাক-সবজি : গাঢ় সবুজ রঙের শাক-সবজি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এই ধরনের খাবারে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি এগুলোতে ক্যালরির পরিমাণও খুব কম থাকে। পালং শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুস পাতা ইত্যাদি খাবারে ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট (শর্করা)-এর পরিমাণ কম। এছাড়া শিমও বেশ পুষ্টিকর খাবার। শিমে প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত স্টার্চ, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও উদ্ভিজ প্রোটিন পাওয়া যায়। রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিম তাই খুব কার্যকর ভূমিকা রাখে।

মাছ : ডায়াবেটিক রোগীরা নিয়মিত মাছ খেতে পারেন। যে কোনো ধরনের মাছই প্রোটিনের ভালো উৎস। মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকে যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। মাছের ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়ায়। ফলে শরীরে ইনসুলিনের ক্রিয়াশীলতা বাড়ে।

বিভিন্ন ধরনের ফল : ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সাইট্রাস ফল খুব উপকারী। সাইট্রাস ফল বলতে লেবু, কমলালেবু, মাল্টা ইত্যাদিকে বুঝায়। এসব ফল ভিটামিন সি-এর দারুণ উৎস। পেয়ারাও বেশ উপকারী ফল। পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ডায়েটারি ফাইবার বা খাদ্য আঁশ রয়েছে। ডায়েটারি ফাইবার থাকার কারণে এটি রক্তের শর্করার পরিমাণ না বাড়িয়েই শরীরে বাড়তি পুষ্টির জোগান দেয়। এছাড়া ডায়াবেটিক রোগীরা ডালিম, আমড়া, আমলকি এবং পেঁপে খেতে পারেন।

বাদাম : অনেকেই মনে করেন, ডায়াবেটিক রোগীদের বাদাম খাওয়া একেবারেই নিষেধ। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা। বাদামে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা স্নেহজাতীয় উপাদান থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাদাম ডায়াবেটিস প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। চিনাবাদাম ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ১ আউন্স আখরোট বা কাজুবাদাম রাখলে তা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ভালো কাজ দেয়।

টক দই : টক দই এমনিতেই স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। টক দইতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে। তাছাড়া মজবুত হাড় ও সুস্থ দাঁতের জন্যও টক দই উপকারী। এতে চিনির পরিমাণ খুবই কম। ফলে টক দই রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। দুপুরে খাবারের পর কিংবা বিকালে নাস্তার সঙ্গে টক দই খাওয়া যেতে পারে।

সম্পাদনা : লায়লা আরজুমান্দ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত