সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এবার কাগজের ব্যাগ বানাতে চাই

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৬ এএম

একান্ত সাক্ষাৎকারে কাজী সাজেদুর রহমান

অল্প পুঁজি নিয়ে ছয় বছর আগে ঢাকার তেজগাঁওয়ে ১২০০ বর্গফুটের একটি কারখানা আর তিনজন শ্রমিক নিয়ে যাত্রা শুরু করে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রি। কাগজ দিয়ে চা-কফি খাওয়ার ওয়ান টাইম কাপ, প্লেট বানানো শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে দৈনিক এক লাখ কাপ উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কারখানায় এখন প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে আট লাখ কাপ। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা কাজী সাজেদুর রহমান বলেছেন, এবার পরিবেশসম্মত কাগজের ব্যাগ বানানোর পরিকল্পনা করছে কেপিসি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়ান বণিক

ব্যবসা শুরু করলেন কীভাবে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায়ই ব্যবসার কথা মাথায় আসতে ছিল। ২০০৫ সালে একটা কোম্পানি খুলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে প্রথম ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করি। মিটারের নিচে প্লাস্টিকের সিল সরবরাহ করা ছিল আমার কাজ। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করি। পরে কাগজের কাপ বানানোর চিন্তা আসে ২০১১ সালের দিকে।

কেপিসি ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু কীভাবে?

কাগজের কাপ বানানোর পরিকল্পনা করার পর চীন থেকে যন্ত্রপাতি ও কাগজ আমদানি করি ২০১২ সালের এপ্রিলে। ওই সময় তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দেই। চীনে গিয়ে যন্ত্র চালানোর কৌশল আমি নিজেই শিখে আসি। পরে শ্রমিকদের শেখাই। মে মাসে কাগজের কাপ উৎপাদন শুরু হয়।

কাপ বিপণনের শুরুর দিককার অভিজ্ঞতা কেমন?

শুরুতে প্রতিদিন এক লাখ কাপ উৎপাদন হতো। ২০১২ সালের জুন মাসে উৎপাদিত কাপ নিয়ে প্রথম যাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান শেভরন কার্যালয়ে। কাপ দেখে ও আলোচনা করে ওই দিনই তারা প্রতিমাসে দুই লাখ পিস করে সরবরাহ আদেশ দেয়। এরপর থেকে দেশ-বিদেশের করপোরেট কোম্পানিগুলোতে যোগাযোগ করতে থাকি, প্রায় সব জায়গা থেকেই সরবরাহ আদেশও পেতে থাকি। এখন প্রতিদিন ১০ লাখ কাপ উৎপাদন হয়। বসুন্ধরা, হোটেল সোনারগাঁও, অ্যাপোলো হাসপাতাল, এসিআই, ইউনিলিভার, নেসলে, ইগলুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ সব কাপ নিচ্ছে।

এই সময়ে কারখানা সম্প্রসারণ হয়েছে কতটুকু?

২০১৬ সালে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে জাতীয়ভাবে সেরা উদ্যোক্তা পুরস্কার পাওয়ার পর ব্যবসা সম্প্রসারণ শুরু করি। বর্তমানে রূপগঞ্জে ১৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে। আট হাজার বর্গফুট নির্মাণ সম্পন্ন করে কারখানা চালু করা হয়েছে। এখন কাপ, প্লেট, বাটি উৎপাদনের যন্ত্র সংখ্যা তিনটি থেকে বেড়ে ১০টিতে উন্নীত হয়েছে। কর্মী সংখ্যা তিন থেকে বেড়ে এখন ৪০-এ উঠেছে। বার্ষিক তিন কোটি লেনদেন এখন কয়েকগুণ বেড়েছে। কয়েক বছরের মধ্যেই  এটিকে ৪০ কোটিতে যাবে বলে আশা করছি।

বিদেশে কাপ রপ্তানির কোনো সম্ভাবনা আছে কি?

এরই মধ্যে বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে রপ্তানি আদেশ পেয়েছি। রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনাসহ পাওয়াসহ অন্যান্য দাপ্তরিক বিষয়গুলোর কাজ এখনও সম্পন্ন না হওয়ায় রপ্তানি শুরু করতে পারিনি। এ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রপ্তানি শুরু করব।

কেপিসির নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

আমরা কাগজের ব্যাগ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছি। এই ব্যাগ হবে খুবই পাতলা কাগজের। তবে কাগজ হবে ওয়াটারপ্রুফ (পানিতে ভিজবে না)। ভারী ওজন বহনে সক্ষম ওই কাগজের ব্যাগ সহজে ছিঁড়বেও না।

কবে নাগাদ কাগজের ব্যাগ উৎপাদন শুরু হবে?

এ জন্য নতুন নতুন মেশিন আমদানি করতে হবে। এখনো ব্যাংক থেকে ঋণ পাইনি। ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটের কারণে কাপ তৈরির কারখানা সম্প্রসারণেও ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে ঋণের বিষয়ে আলোচনা করছি। ঋণ পাওয়া গেলেই কাগজের ব্যাগ উৎপাদনের মেশিন আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত