বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ধ্বংসের পথে পানাম সেতু

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:৩৬ এএম

অযত্ন অবহেলায় ধ্বংসের পথে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ইতিহাসের সাক্ষী সপ্তদশ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক পানাম সেতু। সেতুটি বর্তমানে যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে। সেতুর জীর্ণদশা দেখে হতাশ হচ্ছেন আগত পর্যটকরা। ঐতিহাসিক পানাম নগরীর পার্শ্ববর্তী পঙ্খীরাজ খালের ওপর নির্মিত এ সেতুটি চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় প্রায় ৩ বছর আগে সেতুটির পাশে একটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় মোগল আমলের ঐতিহাসিক পানাম সেতু।

কর্তৃপক্ষ এ প্রত্ন স্থাপনাটি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিত্যক্ত এ সেতুর ওপর রিকশা-ভ্যানের গ্যারেজও করে রেখেছে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। এ ছাড়াও সেতুর ওপর ঝোপঝাড় তৈরি হয়েছে। সেখানে গরু-ছাগলও চড়তে দেখা যায়। সেতুর নিচে আদমপুর বাজারের আবর্জনা ও মুরগির বিষ্ঠা ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পর্যটকদের। পানাম সেতুটি দৈর্ঘ্য ১৭৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট। তিনটি পিলারবিশিষ্ট এ সেতুর নিচ দিয়ে নৌচলাচলের সুবিধার্থে মধ্যবর্তী পিলারটি অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত ও উঁচু করে নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। এছাড়া দেখা দিয়েছে ফাটল। ঝুঁকির মুখে পড়েছে ঐতিহাসিক পানাম সেতু। সেতুটি সংস্কার করে সংরক্ষণের আওতায় আনলে পর্যটকদের জন্য এটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

সোনারগাঁ পানাম সিটির তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘পাশে বিকল্প একটি সেতু নির্মাণ করায় পানাম সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেতুটি আমরা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো স্থানীয় কিছু প্রভাশালীর ছত্রছায়ায় এখানে রিকশা-ভ্যান রেখে সেতুর সৌন্দর্যহানি ঘটানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কয়েকবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের তোপের মুখে পড়েছি। একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েও পাইনি।’  পানাম সিটির তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিনূর ইসলাম বলেন, পানাম সেতু দেশের মূল্যবান প্রত্নসম্পদ, এটি রক্ষা করতে হবে। যারা এ সেতুর সৌন্দর্যহানি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত