সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সংরক্ষিত নারী আসন

দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করবে আ.লীগ

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫১ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করবে আওয়ামী লীগ। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৫ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। মনোনয়ন ফরম কতদিন বিক্রি হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। নির্বাচন কমিশনের শিডিউল ঘোষণা পর্যন্ত আগ্রহীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী আসন বণ্টন করা হয়। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, বিএনপি ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে ১টি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে।

একাদশ সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গত বুধবার তার দলের চারজন প্রার্থীর তালিকা স্পিকারের কাছে পাঠিয়েছেন।

আইন প্রণয়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১৯৭২ সালে সংবিধানে বিশেষ কোটা চালু করা হয়। সেই থেকে প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ থাকছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ আরও ২৫ বছর নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বহাল রাখতে সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮ পাস করা হয়েছে। ২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৫টি নারী আসন ১০ বছরের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। এর আগে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি। নবম সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি করা হয়।

সংরক্ষিত এমপিরা থাকতে পারেন প্রথম অধিবেশনেই : আগামী ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যোগ দিতে পারেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা। বছরের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় এ অধিবেশন দীর্ঘদিন চলবে। এই অধিবেশনেই যেন সংরক্ষিত নারী এমপিরা যোগ দিতে পারেন। এ জন্য ইসি ও সংসদ সচিবালয় কাজ করছে এবং  চলতি সপ্তাহেই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে ইসি জানিয়েছে। জানা গেছে, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি মধ্যে সংসদের সরাসরি নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুপাতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে ২টি আসন পাবে। তবে দল ও জোটগুলো সমঝোতার মাধ্যমে আসন সংখ্যা কমবেশি করতে পারবে।

ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আগামী সপ্তাহে সংরক্ষিত মহিলা আসনে তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইসির সব রকম প্রস্তুতি রয়েছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে দল বা জোট সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ পাবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের জন্য কমিশন দল ও জোটওয়ারি তালিকা তৈরি করবে এবং ভোটার তালিকা ইসিতে টানিয়ে দেবে। দল বা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে চিঠি দেবে ইসি সচিবালয়।

একাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৩টিই পেতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি পাবে ৪টি।

সংরক্ষিত নারী আসনের আইন অনুযায়ী তারা এই সংখ্যক আসন পাবে। আইনে বলা আছে, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে যে দল যতটি আসন, তার আনুপাতিক হারে ৫০টি আসন দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন পেয়েছে। এই হিসাবে তারা পাবে ৪৩টি আসন। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। এর বিপরীতে তারা পাবে ৪টি নারী আসন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ৮টি আসন। এই অনুপাতে তারা পাবে ১টি আসন। বাকি ২টি আসন পাবে অন্য দলগুলো।

জানা গেছে, সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য থেকে এরই মধ্যে গণভবনে জোর লবিং শুরু করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের নারীনেত্রীরা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংসদ, গণমাধ্যম বিশেষ করে টকশোতে জোরালো অবস্থানে রয়েছেনÑ এমন কয়েকজন নারী সংসদ সদস্য আবারও থাকছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, মাহজাবিন খালেদ, সাবিনা আক্তার তুহিন, অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি, নূর জাহান বেগম মুক্তা অন্যতম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত