সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এই দিনে ২ ফেব্রুয়ারি

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০২ পিএম

প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান ১৯৮৮ সালের এই দিনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার পুরো নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান। ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার নারেঙ্গা গ্রামে। কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস থেকে ১৯৪৭ সালে চিত্রকলায় ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ছাত্রজীবনে চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি তিনি বয়েজ-স্কাউট, শরীরচর্চা, ব্রতচারী আন্দোলন, শিশু সংগঠন মণিমেলা, মুকুল ফৌজ প্রভৃতি কর্মকা-ে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৫ সালে শরীরচর্চা প্রতিযোগিতায় তিনি বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হন। দেশবিভাগের পর কামরুল হাসান ঢাকায় চলে আসেন এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে ঢাকায় একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন (১৯৪৮)। ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকা আর্ট গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের নকশা কেন্দ্রের প্রধান নকশাবিদ নিযুক্ত হন। বাংলাদেশের স্বাধিকার ও অসহযোগ আন্দোলনের যোদ্ধা কামরুল হাসান একাত্তরের উত্তাল মার্চে শিল্পীদের ‘স্বা-ধী-ন-তা’ মিছিলের অন্যতম সংগঠক এবং বাংলা চারু ও কারুশিল্পী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও বেতার দপ্তরের শিল্প বিভাগের পরিচালক হন তিনি। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খানের রক্তপায়ী হিংস্র মুখমণ্ডলের স্কেচ ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ একাত্তরে গণহত্যার এক অসামান্য চিত্রদলিল হয়ে আছে। ১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কবিতা পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে মঞ্চে বসে তিনি আঁকেন জীবনের শেষ স্কেচ ‘দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে’। স্বৈরাচারী লে জে হু মু এরশাদের এই প্রতিকৃতিও গণতন্ত্রের দাবিতে আশির দশকের ছাত্র-গণ-আন্দোলনের চিত্রভাষ্য হয়ে আছে। এই ক্যারিকেচার আঁকার কিছুক্ষণ পরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ এই শিল্পীর চিত্রকলায় লৌকিক ও আধুনিক রীতির মিশ্রণ ঘটায় তিনি ‘পটুয়া কামরুল হাসান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত