মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চোখের অ্যালার্জি ও প্রতিকার

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:১৮ পিএম

কোনো জিনিসের প্রতি শরীরের অতি সংবেদনশীলতা থাকলে ওই বস্তু বা জিনিস শরীরের সংস্পর্শে এলেই দ্রুত চামড়া লাল হয়ে যায়, চুলকায়, ফুলে যায়, পানি পড়ে ইত্যাদি। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বস্তু চোখের সংস্পর্শে আসলে চোখে একই প্রতিক্রিয়া হয়। যাকে চোখের অ্যালার্জি বলে।

কারণ

ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, গরুর মাংস, ডিম, পালংশাক, পুঁইশাক, চোখে ব্যবহার্য প্রসাধনী সামগ্রী, ফুলের রেণু, ধুলাবালি, পোকামাকড় ইত্যাদি চোখে প্রবেশ করলে চোখে অ্যালার্জি হতে পারে। চোখে ছয় ধরনের অ্যালার্জি হতে দেখা যায়। তাহলো-

সিজনাল অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস: শীতের শেষে। বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফুলের রেণু, ধুলাবালি ইত্যাদি অ্যালার্জেন চোখ ও নাকের সংস্পর্শে এলেই চুলকানি হয়, চোখ লাল হয়ে যায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চোখ ফুলে যায়, নাক দিয়ে সর্দি ঝরে, হাঁচি-কাশি হয়, নাকবন্ধভাব হয়। অনেক সময় জ্বরও থাকে। যাদের এই অ্যালার্জি বেশি হয়, তাদের চোখের চারপাশে কালো দাগ পড়ে যায়।

পেরেনিয়াল অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস : লেপ, তোশক, কাঁথা ইত্যাদি থেকে চোখের এই অ্যালার্জি হয়ে থাকে। লক্ষণ হলো চুলকানি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ ফুলে যায়।ভারনাল কেরাটোকনজাংটিভাইটিস : শীতের শেষের দিকে রোগটি বেশি হয়। ছোটরা বেশি আক্রান্ত হয়। কোনো কোনো সময় এ রোগটি তীব্র আকার ধারণ করে। চিকিৎসা না করলে চোখের মণিতে ক্ষত হতে পারে। মণি ঘোলা হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। চোখে চুলকানি, চোখ দিয়ে বেশি পানি ঝরা, চোখের ভেতরে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, আলোর দিকে তাকাতে অসুবিধা ইত্যাদি হতে পারে।

অ্যাটপিক কেরাটোকনজাংটিভাইটিস : বয়স্ক মানুষ এতে বেশি আক্রান্ত হয়। আগে থেকেই যাদের ত্বকের প্রদাহ বা ডার্মাটাইটিস থাকে তাদের রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সারা বছরই রোগটি হতে পারে। তবে অতিমাত্রায় চুলকায়, চোখ জ্বলে, লাল হয়ে যায়, ঘুম থেকে উঠলে চোখের কোণে ময়লা জমে ও চোখ খুলতে অসুবিধা হয়।

কন্ট্যাক্ট অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস : যারা চোখে কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন তাদের বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে চোখ লাল হয়, চুলকায়, লেন্স পরলে অসুবিধাবোধ হয়।।

জায়ান্ট প্যাপিলারি কনজাংটিভাইটিস: কন্ট্যাক্ট অ্যালার্জিরই একটি মারাত্মক ধরন এটি। এ ক্ষেত্রে চোখ চুলকায়, চোখ ফুলে যায়, পানি ঝরে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়, সব সময় মনে হয় চোখে কিছু আটকে আছে, চোখ থেকে মিউকাস ঝরে।

চিকিৎসা

অ্যালার্জি হয় এ রকম বস্তু থেকে দূরে থাকা, চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করা। অনেক ধরনের ওষুধ আছে। স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত চোখের ড্রপ ও অ্যালার্জিপ্রতিরোধী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

এতে ভালো না হলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়। এর মধ্যে আছে অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ, মাস্টসেল স্টাবিলাইজার, স্টেরয়েড। আবার চোখের কর্নিয়া ঠিক রাখতে চোখের কৃত্রিম পানি ড্রপ হিসেবে নিয়মিত দিতে হয়। যাদের চোখের অসুখ, যেমন গ্লুকোমা, আছে তাদের ক্ষেত্রে ডিকনজাস্ট্যান্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় চোখে ব্যথার অনুভূতি কমানোর জন্য পেইনকিলার ড্রপও ব্যবহার করা হয়। কিছুদিন পরপরই অ্যালার্জি হলে চোখের ডাক্তারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা ও ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।

বেবি সেন্টার অবলম্বনে

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত