বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ম্যাকের ৩৫ বছর

সহজিয়া পথের সন্ধান

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৬ পিএম

পকেটে হাজার হাজার গান। হাতে এক পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে অফিস-বাড়ির দৈনন্দিন জীবন আরামদায়ক। কে কবে ভেবেছিল এত সহজ হবে  দুনিয়া! হ্যাঁ, হয়েছে। হয়েছে স্টিভ জবসের কারণে। হয়েছে তার প্রাণের প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের কারণে। হয়েছে ৩৫ বছর আগের এক আবিষ্কার  ম্যাকিনটোশ তথা ম্যাকের কারণে। ম্যাকের এযাবৎকালের বিস্ময়কর সব আবিষ্কার নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন অমৃত মলঙ্গী

১৯৭৬ সাল। স্টিভ জবস বন্ধু ওজনিয়াকের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করলেন অ্যাপল। ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) আজ যে ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে, সেটি স্টিভ জবস ও ওজনিয়াকেরই অবদান। ১৯৮৫ সালে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার হয়ে অ্যাপল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল জবসকে। প্রতিষ্ঠানটি পরে ক্ষতির মুখে পড়লে জবস আবার ফিরে আসেন। যাওয়া-আসার এই মাঝে একদম শুরুতে, ১৯৮৪ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাকিনটোশের সঙ্গে পৃথিবীকে পরিচিত করান জবস। আজ যে অ্যাপল কম্পিউটার জনপ্রিয় হয়েছে তা ওই ম্যাকিনটোশেরই অবদান। ওই কম্পিউটারটির পর আরও কিছু কম্পিউটার নিয়ে হাজির হয় ম্যাক।

মূল ম্যাকিনটোশ যেমন ছিল

ম্যাকিনটোশই প্রথম কম্পিউটার, যেটি ব্যক্তিগত কাজের পাশাপাশি ছবিভিত্তিক (গ্রাফিক্যাল) ইন্টারফেস ব্যবহারের জন্য বাজারে ছাড়া হয়। ওই সময় এর দাম ছিল ২৪৯৫ ডলার বা দুই লাখ আট হাজার ৩৩৯ টাকা। এতে ব্যবহার করা হয় মটোরোলা ৬৮০০০ সিপিইউ ও ১২৮ কিলোবাইট র‌্যাম। ৯ ইঞ্চি সাদাকালো মনিটর। রেজুলেশন ৫১২ বাই ৩৪২ পিক্সেল। বিল্ট ইন ছিল সাড়ে তিন ইঞ্চি ফ্লপি ড্রাইভ। ফ্লপি ডিস্ক ড্রাইভ, কিবোর্ড এবং মাউসসহ ম্যাকিনটোশ প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটার হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। প্রযুক্তির কোনো জ্ঞান নেই এমন মানুষ ওই সময় প্রথম কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করেন।

ম্যাকিনটোশকে জনপ্রিয় করতে অ্যাপল তুমুল প্রচার চালায়। একটি টিভিসিও বানানো হয়। বিখ্যাত ব্রিটিশ চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রযোজক স্যার রিডলি স্কট টিভিসিটি পরিচালনা করেন।

ম্যাকিনটোশ এসই

১৯৮৭ সালে বাজারে আসে ম্যাকিনটোশ এসই। সাদাকালো ম্যাকের ভেতর এটি ছিল সবচেয়ে কার্যকরী। খুব দ্রুত কাজ করত।

ম্যাকিনটোশ এসইতে ব্যবহার করা হয় ১৬ মেগাহার্টজ ৬৮০৩০ প্রসেসর। ৪০ এমবি অথবা ৮০ এমবি হার্ডড্রাইভ। ১ এমবি অথবা ৪ এমবি র‌্যাম। দাম ছিল প্রায় চার লাখ টাকা। এটাই প্রথম ম্যাক যাতে কুলিং ফ্যান ব্যবহার করা হয়।

image

ম্যাকিনটোশ পোর্টেবল

এটি ওই অর্থে আহামরি কিছু ছিল না। তবে সহজে বহনীয় কম্পিউটার জগতে এর অবদান অনেকখানি। ১৬ মেগাহার্টজ প্রসেসরে একটি অ্যাকটিভ ম্যাট্রিক্স স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়। এটি এমন এক ধরনের পর্দা, যেটি বারবার রিফ্রেশড হয়। আধুনিক যুগের মতো সহজে বহন করার মতো কম্পিউটার এটি নয়, ওই সময়ের বিবেচনায় বেশি সহজে বহন করা যেত। পুরুত্ব ছিল ৪ ইঞ্চি, ওজন ১৫.৮ পাউন্ড। মূল্য সাড়ে পাঁচ লাখের মতো।

বর্ষপূর্তিতে নতুনত্ব

১৯৯৭ সালে ২০ বছরের মাথায় মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টের জন্য অ্যাপল নতুন এক ধরনের কম্পিউটার নিয়ে আসে। নান্দনিক সমতল স্ক্রিনের এটি বেশি পরিচিত পায়। টিভি কার্ড, এস-ভিডিও ইনপুটের সঙ্গে বোস করপোরেশনের ডিজাইন করা কাস্টম সাউন্ডও ছিল। ওই সময় দাম ছিল প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। এটি বেশি দিন চলেনি। বছর শেষ হওয়ার আগেই দাম কমিয়ে দেড় লাখ করা হয়।

আইম্যাক জি৩

অ্যাপল তখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। তত দিনে স্টিভ জবস আবার যোগ দিয়েছেন অ্যাপলে। অবস্থা ফেরাতে বাজারে নিয়ে আসেন আইম্যাক জি৩। এটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ঘুরে দাঁড়ায় অ্যাপল।

ম্যাকের এ এযাবৎকালের সেরা কম্পিউটারের মধ্যে অন্যতম এই আইম্যাক জি৩। কম্পিউটার বলতে ততদিন বড়সড় একটা বস্তুকে চিনে আসছিল মানুষ। আইম্যাক সেই ধারণা বদলে দেয়। এর পেছনের দিকটা স্বচ্ছ রাখা হয়, যাতে ভেতরের যন্ত্রপাতি ক্রেতারা দেখতে পারেন।

শুধু দেখতে ভালো এমন নয়। আইম্যাক জি৩ দারুণ কিছু ফিচারও যোগ করে। এর মধ্যে অন্যতম টেলিফোন মডেম, গোপন ক্যাবল ম্যানেজমেন্ট প্রকোষ্ঠ এবং ইউএসবি পোর্টের সুবিধা।

এটি ডিজাইন করেন অ্যাপলের প্রধান ডিজাইন অফিসার জনি ইভ। ১৯৯৯ সালের দিকে আপগ্রেড করা হয়।

আইবুক

১৯৯৯ সালে ফ্যাশনেবল আইবুক নিয়ে আসে অ্যাপল। শিক্ষার্থীরা এটি লুফে নেয়। এটি তৈরি করা হয় আইম্যাক জি৩-এর আদলে। সমন্বিত ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সুবিধাসহ এটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। দাম নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

পাওয়ার ম্যাক জি৪ কিউব

এই কম্পিউটারটি বাজারে ছাড়া হয় ২০০০ সালে। ব্যবসায়িক দিক থেকে এটি সাফল্য না পেলেও ডিজাইনের জন্য আলোচিত হয়।

আইম্যাক জি৪

১৫ ইঞ্চি এলসিডি স্ক্রিনের এই কম্পিউটারটি বাজারে আসে ২০০২ সালে। এখনো এর ডিজাইনটি মানুষ পছন্দ করে।

ম্যাক মিনি

দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে ২০০৫ সালে ম্যাক মিনি বাজারে আনে অ্যাপল। মনিটর, কীবোর্ড এবং আরও কয়েকটি অতিরিক্ত পার্ট বাদ দেওয়া হয়। ক্রেতারা এটি ৪১ হাজার টাকায় কিনতে পারে। একটু দাম বাড়লেও এখনো এটি নতুন মডেলে পাওয়া যায়।

ম্যাকবুক প্রো

ইন্টেল পাওয়ার্ড প্রসেসরের প্রথম ম্যাক নোটবুক কম্পিউটার এটি। এটি বাজারে আসে ২০০৬ সালে। দাম নির্ধারণ করা হয় দেড় লাখের কিছু বেশি।

ম্যাকবুক এয়ার

২০০৮ সালে বাজারে আসা এই প্রযুক্তিটি ওই সময় সবচেয়ে বেশি পাতলা নোটবুক ছিল। দাম ছিল অনেক। সিডি/ডিভিডি ড্রাইভ ছাড়া এটি অ্যাপলের প্রথম নোটবুক। একটা মাত্র ইউএসবি পোর্ট। ব্যাটারি পরিবর্তন করা যায় না। পাতলা করতে গিয়ে এতসব কাহিনী করতে হয় অ্যাপলকে। এখনকার দিনে যত পাতলা নোটবুক দেখা যায়, সব ম্যাকবুক এয়ারকে কপি করে বানানো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত