রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাইফউদ্দিনের বীরত্বে বিপদে ঢাকা

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:১৭ এএম

গতকাল শুক্রবার ঢাকা ডায়নামাইটস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইটিতে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে কুমিল্লা। লো স্কোরিং লড়াইয়ের শেষদিকটায় পেন্ডুলামের মতো দুলছিল ম্যাচ। বেশিরভাগ সময় এগিয়ে ছিল কুমিল্লাই। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের চোখধাঁধানো বোলিং পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা মাত্র ১ রানের জয়োৎসবে মাতল।

টস হেরে আগে ব্যাট করা কুমিল্লা নির্ধারিত ওভারে ১২৭ রানে অল আউট হয়। ওই সময় পর্যন্ত ম্যাচে সহজ জয় দেখছিল শক্তিশালী ঢাকা। কিন্তু জয় ও তাদের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান সাইফউদ্দিন। কুমিল্লার এ তরুণ ২২ রানে ৪ উইকেট নেওয়ায় নির্ধারিত ওভারে ঢাকা ৯ উইকেটে ১২৬ রানে থামে। এ জয়ে ১১ খেলায় ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে গেল কুমিল্লা। আর সমান খেলায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পাঁচে নেমে যাওয়া ঢাকা এখন ঘোর বিপদে। নকআউটে উঠতে হলে শেষ ম্যাচ তাদের জন্য ফাইনাল।

নিজেদের ইনিংসের ১৬ ও ১৭ এ দুই ওভারে মাত্র ১ রান নিতে পারে ঢাকা। সেখানেই অনেকটা পিছিয়ে যায় সাকিব আল হাসানরা। ১৭তম ওভারে আবার টানা ২ উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান সাইফউদ্দিন। ম্যাচে দারুণ বোলিং করায় শেষ ওভারটিতে তামিম-ইমরুলদের ভরসার পাত্র হয়ে ওঠেন। শেষ ওভারে ঢাকার জিততে দরকার ১৩ রান। স্ট্রাইকে রুবেল হোসেন। কুমিল্লার লক্ষ্য অপরপ্রান্তে থাকা বিগ হিটিং গ্রেট আন্দ্রে রাসেলকে স্ট্রাইকে না দেওয়া। প্রথম বলেই রুবেলকে ফেরান সাইফ। পরের বলে শেষ ব্যাটসম্যান শাহাদাত হোসেন কোনোরকমে সিঙ্গেল নিয়ে রাসেলকে স্ট্রাইক দেন। ক্যারিবিয়ান তারকা এ পাশে আসতেই আশায় ঢাকা। চার বলে ১২ রান নেওয়া রাসেলের জন্য মামুলি ব্যাপার।

কিন্তু পরপর দুই বল ডট দিয়ে নিজের সামর্থ্য দেখান তরুণ সাইফ। পঞ্চম বলে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে মামুলি কাজটাই করতে যাচ্ছিলেন রাসেল। কিন্তু এদিন সাইফউদ্দিনের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তাই শেষ বলটায় একদম নিখুঁত ইয়র্কার ছুড়লেন। তা কোনোরকম রুখতে গিয়ে উইকেটে পড়ে গেলেন রাসেল। বল তার ব্যাটে লেগে বাউন্ডারি। দুই বলে ১২ রানের জায়গায় ১০ নিয়ে ঢাকাকে জেতাতে ব্যর্থ রাসেল। ততক্ষণে ম্যাচের নায়ক সাইফউদ্দিনকে নিয়ে উল্লাসে মাতোয়ারা কুমিল্লা।

মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নামলেও ঢাকার শুরুটা একদম বাজে ছিল। মাত্র ২৯ রানে অধিনায়ক সাকিবসহ, মিজানুর, রনি, থারাঙ্গাকে হারিয়ে ম্যাচটা সেখানেই হেরে বসে দলটি। এরপর ঢাকার ভরসা ক্যারিবিয়ানরা। তিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা নারিন, পোলার্ড ও রাসেলই যা একটু লড়েছেন। ৪২ রানের জুটি গড়ে নারিন (২২) ও পোলার্ড (৩৪) ঢাকাকে জয়ের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু ফিনিশিং দিতে পারেননি রাসেল। ২৩ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকা ব্যর্থ ক্যারিবিয়ান দানবের দিনে নায়ক বাংলাদেশি তরুণ সাইফউদ্দিন।

এর আগে এভিন লুইসকে নিয়ে শুরু করেছিলেন তামিম ইকবাল। নিষ্প্রভ ছিলেন লুইস। তাই দলীয় ৩৮ রানে জাতীয় দল সতীর্থ নারিনের বলে মাত্র ৮ রানেই ফেরেন এ ক্যারিবিয়ান। উইকেটে আসা এনামুলকে ফিরিয়ে ম্যাচে রুবেলের দারুণ পারফরম্যান্স শুরু। তামিম ইকবালকে ফিরিয়ে কুমিল্লাকে বিরাট ধাক্কা দেওয়ায় অসাধারণ অবদান এ পেসারের। ২০ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ করে ছুটতে থাকা তামিম শুভাগতকে লং অন দিয়ে উড়িয়ে মারেন। ঝাঁপিয়ে পড়ে মাটির কিছু ওপর থেকে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেন রুবেল। অনায়াসেই টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচের দাবিদার এটি। তামিম ফিরতেই কুমিল্লার অবস্থা বদলে যায়। পরের দুই ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান ও ইমরুল কায়েসকে দ্রুত ফেরান সাকিব। শহিদ আফ্রিদিকে ১৮ রানে থামান নারিন। ভরসার নাম ছিলেন থিসারা পেরেরা। তবে এ শ্রীলঙ্কানকেও খোলসছাড়া হতে দেননি রুবেল। মাত্র ১০ বলে ৯ রান করে থামে পেরেরার ইনিংস। শেষদিকে মেহেদী হাসান (২০) ও ওয়াহাব রিয়াজের (১৬) কল্যাণে দলের স্কোর একশ পার হয়। দুজনকেই তুলে নেন রুবেল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত