মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সম্পাদক ‘হত্যার পরিকল্পনা’

‘আনসারুল্লাহর’ ৪ জন গ্রেপ্তার

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩১ এএম

দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদককে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের’ (এবিটি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গত বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল শুক্রবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ শাহরিয়ার নাফিস ওরফে আম্মার হোসেন (২০), রাসেল ওরফে সাজেদুল ইসলাম গিফারি (২৪), রবিউল ইসলাম ওরফে নুরুল ইসলাম (২৪) ও আবদুল মালেক (৩১)। র‌্যাবের ভাষ্য, গত সোমবার আশুলিয়া থেকে আবদুস সোবহান ওরফে হাবিব (২৮) নামের এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে বাহিনীর সদস্যরা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, মোবাইল ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাবের দাবি, বর্তমানে গোপনে সংগঠনকে উজ্জীবিত করার জন্য গ্রেপ্তারকৃতরা কাজ করে যাচ্ছিল। তাদের মূল লক্ষ্য সংগঠনের প্রধান জসিম উদ্দিন রহমানীকে কারাগার থেকে মুক্ত করা। এজন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ করছে জঙ্গি সংগঠনটি। কারাগারে হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপে ছদ্মবেশে যুক্ত হয়ে কথিত ইসলামবিদ্বেষী অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর নজরদারি করছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একটি সেলের সদস্যরা। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও বিরূপ মন্তব্য পোষণকারীদের চিহ্নিত করে ‘‘টার্গেট অ্যান্ড কিলিংয়ের’’ (লক্ষ্যবস্তু বানানো ও হত্যা) মিশন সফল করার চেষ্টাও করে আসছিল তারা।’ তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গিদের টার্গেটে ছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক। গত বছরের জুলাইয়ে এ পত্রিকাটিতে বিবাহ-সংক্রান্ত হাদিস নিয়ে ‘‘কটূক্তি’’ করায় ওই পত্রিকার সম্পাদককে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল তারা। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তাদের আটক করা হয়েছে।’

সেই পত্রিকা ও সম্পাদকের নাম জানতে চাইলে মাহমুদ খান বিষয়টি ‘সংবেদনশীল’ উল্লেখ করে কথা বাড়াতে চাননি। ওই সময় তিনি জানান, এবিটির সদস্যরা ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত শাহরিয়ার নাফিস ওরফে আম্মার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে ২০১৭ সালে ফেইসবুকে আমানের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে এবিটিতে যোগ দেয়। আমান তার নিয়ন্ত্রক। সে ৪-৫টি ফেইসবুক গ্রুপ তৈরি করে প্রচার চালায় এবং জঙ্গি সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। শাহরিয়ার এবিটির টার্গেট কিলিং মিশনের মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্টের ওপর নজরদারি শুরু করে। শাহরিয়ার ছদ্মবেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপে ঢুকে পড়ে। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই গ্রুপের এক সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনাও করে সে।’

তিনি বলেন, ‘শাহরিয়ার ও অপর দুই সদস্য এ হত্যাকাণ্ডের দায়িত্বে ছিল। এদের একজন গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ এবং অপর একজন বরগুনা থেকে বগুড়া যায়। সেখানে গিয়ে ওই অ্যাক্টিভিস্টকে ফোন করে দেখা করতে বললে তিনি দেখা না করায় মিশনটি ব্যর্থ হয়।’

মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘রাসেল গার্মেন্টসে চাকরি করত। সে ২০১৭ সালে ফেইসবুকের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। রবিউল ইসলাম ২০১৮ সালে শাহরিয়ারের মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়। মালেক প্রাইভেট গাড়িচালক ছিল। ২০১৮ সালে রাসেলের মাধ্যমে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগদান করে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত