শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডাকসু নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল

আগে সুষ্ঠু পরিবেশ পরে নির্বাচন

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৫৯ এএম

বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলেও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তফসিল ঘোষণার আগে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও ছাত্রছাত্রীদের অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, ডাকসু নির্বাচন করার জন্য শিক্ষকদের নিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে, তা নিরপেক্ষ নয়। তা ছাড়া হল ও ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত হয়নি।

বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলের ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচনে সকল ছাত্রসংগঠন অংশগ্রহণ করতে চায়। কিন্তু তারা যে পরিবেশ চায় সে পরিবেশ নেই। তাই আগে পরিবেশ নিশ্চিত করুক কর্র্তৃপক্ষ, তারপর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা। না হলে সবার মনে হতে পারে, কার স্বার্থে কর্র্তৃপক্ষ একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

ডাকসু নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর গত সোমবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করতে এ্যানীকে দায়িত্ব দেওয়া হয় । ডাকসুর ভিপি ও জিএসসহ অন্যান্য পদে প্রার্থী কারা হবেন সে বিষয়ে কাজ করছেন তিনি। দায়িত্ব পেয়ে তিনি দুই দফা ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে বসেছেন।

ছাত্রদলের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হলে ভোট না নিয়ে একাডেমিক ভবনে ভোটগ্রহণ ও বয়সসীমা শিথিলসহ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি জানানো হলেও কোনো দাবিই মানেনি কর্র্তৃপক্ষ। শুধু তা-ই নয়, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতার ওপর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হামলাও হয়েছে। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শিক্ষকদের যে কয়টি কমিটি করা হয়েছে, তা ছাত্রলীগের সুবিধার জন্য করা হয়েছে বলে মনে করছে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। কর্র্তৃপক্ষ সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করছে না। তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। বরং যেসব উদ্যোগ কর্র্তৃপক্ষ নিচ্ছে তা ছাত্রলীগের পক্ষে যাচ্ছে।

ছাত্রদল নেতা সৈকতের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজীব আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কাছে অনেক ওয়াদা করেছিলেন। কিন্তু একটাও মানেননি। তেমনিভাবে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হবে না বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও ছাত্রদল নেতা সৈকতের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মতো ছাত্রলীগকেও বিশ্বাস করা যায় না।

তিনি বলেন, হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল প্রার্থী দিলে দেখা যাবে হামলা করে তাদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করা হবে; নির্যাতন করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। নির্বাচনের নামে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়–ক তা চায় না ছাত্রদল। তাই আগে ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ নিশ্চিত করুক। তারপর নির্বাচন দিক।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান ডালিম বলেন, হলগুলোতে সকল ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকরা থাকতে পারছে না। ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা যেতে পারছে না। অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছে। বাংলা একাডেমিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী নেতারাও হামলার শিকার হয়েছেন। এ অবস্থায় ডাকসু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নাই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত