সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কোথায় যাবে ১০৮ হরিজন পরিবার

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:০১ এএম

পদ্মা সেতুর রেলওয়ে প্রজেক্টের কাজের জন্য রাজধানীর গোপীবাগ কলোনির ১০৮ হরিজন পরিবারকে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা হয়েছে গত ২২ জানুয়ারি। এরপর এক সপ্তাহের বেশি অতিবাহিত হলেও এখনো তাদের পুনর্বাসন করা হয়নি। উচ্ছেদের পর ভাঙা ঘরগুলোতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। অনেকে জানিয়েছেন, শতচেষ্টা করেও তারা বাড়িভাড়া পাননি।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, কলোনির একটি অংশ ভাঙা। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর পাশেই কোনো কোনো পরিবার তাঁবু গেড়ে অস্থায়ীভাবে বাস করছে। খোলা স্থানে চলছে রান্না, খাওয়াদাওয়া ও গোসল।

জানতে চাইলে কলোনির বাসিন্দা লিটন দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্ছেদের আগে কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। পুনর্বাসন না করে এভাবে ঘর ভেঙে দেওয়া হবে কেন? নির্বাচনের আগে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের কাছে গিয়েছিলাম, তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন পুনর্বাসন না করে আমাদের উচ্ছেদ করা হবে না। তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের পর আমরা সংসদ সদস্যের সাক্ষাৎ পাইনি। লিটন বলেন, উচ্ছেদের সময় আমরা মালপত্রও ঠিকমতো সরাতে পারিনি।

কেউ আমাদের পাশে নেই উল্লেখ করে আরেক বাসিন্দা গজন লাল রাজন বলেন, আমরা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৮৬ জন ভোটার মানবেতরভাবে জীবন কাটাচ্ছি। একই স্থানে গোসল ও খাওয়াদাওয়া। আমরা কোথায় যাব? কেউ আমাদের ঘর ভাড়া দেয় না। তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের আগে প্রজেক্ট থেকে লোক এসে আমাদের  ছবি তুলেছিল ও ঘরের মাপ নিয়েছিল। সেসময় আমরা একটি কাগজে স্বাক্ষরও করেছি। তারা বলেছিল, আমাদের পুনর্বাসন করবে কিন্তু করেনি। ঘর ভাঙার দুদিন পর সিটি করপোরেশনের দুজন লোক এসেছিল কিন্তু তারা কোনো সহযোগিতা করেনি বলেও জানান তিনি।

কলোনির বাসিন্দা মানিকনগর মডেল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী মণি রানী বলেন, আমার পরীক্ষা আজ থেকে শুরু। এতদিন খুব কষ্ট করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। জানি না পরীক্ষা কেমন হবে। আর কত দিনইবা এভাবে থাকতে হবে।

এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান মিয়া বলেন, ঘটনার পর কলোনিতে আমি ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে নগর ভবনে কাজ করে এমন ২৮ জনের একটি তালিকা আমরা তৈরি করেছি যাতে তারা ভবিষ্যতে যাত্রাবাড়ীতে নির্মাণ করা ফ্ল্যাট পায়। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আগামীকাল রবিবারে আবারও আলোচনা করব। যতদ্রুত সম্ভব আমরা সমস্যার সমাধান করব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত