বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘ভাসমান বোর্ডিংয়ে’ ৩৫ টাকায় রাত্রিযাপন

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:০৬ এএম

দেখলে মনে হবে কয়েকটি লঞ্চ দাঁড়িয়ে রয়েছে যাত্রীর অপেক্ষায়। যাত্রীরা এলেই ছেড়ে যাবে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কিন্তু এ লঞ্চগুলো আদতে কোথাও যায় না। বছরের পর বছর ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে। আসলে এগুলো মানুষের রাতে থাকার ভাসমান হোটেল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ারও আগে বুড়িগঙ্গার তীরে ওয়াইজঘাট এলাকায় শুরু হয় এই ‘ভাসমান বোর্ডিং’। তিন বছর হলো স্থান পরিবর্তন করে বাদামতলী এলাকায় নোঙর ফেলেছে ফরিদপুর মুসলিম বোর্ডিং, শরীয়তপুর মুসলিম বোর্ডিং, নাজমা ও হিজলা বোর্ডিং নামে পাঁচটি ভাসমান বোর্ডিং যেখানে রয়েছে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা।

মাত্র ৩৫ টাকায় রাত্রিযাপন করা যায় সেখানে। স্থানীয়দের কাছে ‘নৌকা বোর্ডিং’ হিসেবে পরিচিত এ ভাসমান বোর্ডিংগুলোর প্রতিটিতে রয়েছে ৫০-৬০টি রুম। সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকা। ডাবল রুমের ভাড়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। আর শুধু বিছানা পেতে থাকলে দিতে হয় ৩৫ টাকা। আবার অনেক সিঙ্গেল রুমেও দুজন থাকেন, সে ক্ষেত্রে জনপ্রতি গুনতে হয় ৪০ টাকা। লাইট-ফ্যান ছাড়াও প্রতিটি বোর্ডিংয়েই রয়েছে গোসলখানা ও পায়খানা। রান্নার জায়গা না থাকলেও পাশেই রয়েছে ভ্রাম্যমাণ খাবার হোটেল।

শরীয়তপুর মুসলিম বোর্ডিংয়ে গত ৩৬ বছর ধরে বসবাস করছেন বাবুল শেখ। তিনি জানান, প্রথমে ৫ টাকায় থাকতেন এই বোর্ডিংয়ে। ৩৬ বছর পর ভাড়া বেড়ে ৩৫ টাকা হয়েছে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পৃথিবীতে ভাসমান মানুষ কে, কোথায় থাকে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কম টাকায় থাকা যায়, তাই মাসে ২০-২৫ দিন থাকি আবার বাড়ি যাই।’ ওই বোর্ডিংয়ের ব্যবস্থাপক শাহ জামাল দেশ রূপান্তরকে জানান, বাদামতলী এলাকার খুচরা ফল বিক্রেতা, হকার, ফেরিওয়ালারা মূলত এখানকার নিয়মিত বাসিন্দা। সাধারণত ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও বরিশাল এলাকার মানুষই এখানে বেশি থাকে। ভাসমান বোর্ডিংগুলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয় স্থানীয়দের এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো রকম খারাপ কাজ এখানে হয় না।’

টানা ১৬ বছর ধরে শরীয়তপুর মুসলিম বোর্ডিংয়ে রাত্রিযাপনের কথা দেশ রূপান্তরকে জানালেন ফেরিওয়ালা আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘১৬ বছর ধরে এইখানে থাকি। থাকতে ভালোই লাগে। কম টাকায় থাকা আর ব্যবসার মাল সাজানো যায় সহজে। কোনো কষ্ট নেই, আমরা সবাই মিলে ভালোই আছি।’ মজিবুর রহমান সুজন জানান, ‘এক রাত হোটেলে থাকতে অনেক টাকা লাগে। গরিবের জন্য সুন্দর বাসস্থান। সাধারণ মানুষের জন্য এখানে অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত