রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘চাঁদাবাজি’ টোকেনে ‘জয় বাংলা’

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:১০ এএম

সাভারের হেমায়েতপুর, ঋষিপাড়া, জামগড়া ও জিরাবো এলাকার সড়ক-মহাসড়কে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান-সংবলিত টোকেন দিয়ে যানবাহন ও দোকান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় শ্রমিক লীগ আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। টোকেনে ‘অসহায় ও দুস্থ শ্রমিকদের কল্যাণার্থে জাতীয় শ্রমিক লীগ আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে ২০ টাকা অনুদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করা হলো’ লেখা থাকলেও সেখানে থাকছে না আদায়কারীর স্বাক্ষর। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি স্পটে কয়েকজন যুবক মাস্ক পরে টোকেনের বই নিয়ে সড়কের মাঝখানে দৌড়াদৌড়ি করছে। কোনো কাভারভ্যান, লেগুনা, মিনিট্রাক এবং বাস আসলেই থামিয়ে ২০ টাকার টোকেন ধরিয়ে চাঁদা আদায় করছে। আবার কখনো গাড়ির চাপ থাকলে কিংবা টোকেন শেষ হয়ে গেলে টোকেন ছাড়াই চাঁদা আদায় করছে। এ ছাড়া আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় পরিবহনের পাশাপাশি ফুটপাতের বিভিন্ন দোকান থেকেও একই হারে চাঁদা তুলছে। কেউ টাকা না দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ দোকান তুলে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছে।

সাভারের ঋষিপাড়া এলাকায় চাঁদা আদায়কারী রাব্বি মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কিংবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরিবহন শ্রমিকরা মারা যান। এসব অসহায় শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে করে তাদের কল্যাণের প্রতি গাড়ি থেকে ২০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।’

জাতীয় শ্রমিক লীগের আশুলিয়া থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আকবর হোসেন মৃধা চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যদি শ্রমিক লীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো টাকা আদায় করে থাকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘অসহায় ও দুস্থ শ্রমিকদের কল্যাণে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।’

জসিম, শান্ত ও সুজনসহ কয়েকজন দোকানি অভিযোগ করে বলেন, ‘রাস্তার পাশে দোকান করে সংসারের খরচ চালানোই কষ্টকর। দুস্থ ও অসহায়দের কথা বলে শ্রমিক লীগের চাঁদাবাজি যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।’ তারা জানান, শ্রমিক লীগের আশুলিয়া থানার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মামুন নিজেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।’ কাঁচামাল দোকানি শফিকুল বলেন, শ্রমিক লীগ নেতার লোকজন টোকেন দিয়ে তার কাছ থেকে ২০ টাকা চাঁদা আদায় করে এবং বলে, এখন আমাদের সময় তাই চাঁদা দিতে হবে।

আশুলিয়া থানার ওসি রিজাউল হক দিপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা তার জানা নেই। তবে কেউ যদি টোকেন দিয়ে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে তাহলে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত