শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চালের দাম কমেছে

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:১১ এএম

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারভেদে কেজিতে ২-৩ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। শাক-সবজির দাম আগের মতো থাকলেও বেড়েছে মাছের। অপরিবর্তিত রয়েছে মাংসের দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজারগুলোতে সরু চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫৪-৫৮ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৫৬-৬০ টাকায়। প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৬২ টাকায়, বর্তমানে ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মিনিকেট চাল এ সপ্তাহে কেজিপ্রতি ১-২ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ৫৪-৫৬ টাকায়। গত সপ্তাহে ভালো মানের গুটি স্বর্ণা ৩৫-৩৭, স্বর্ণা (পাইজাম) ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে কেজিতে ২-৩ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি করেছেন দোকানিরা। পোলাওর চাল বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ জানান, এ সপ্তাহে কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে চালের দাম। তবে দরের ঊর্ধ্বগতি বা নিম্নগতি কোনোটা সম্পর্কেই জানেন না তিনি। বলেন, ‘চালের বাজার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে মিল-মালিকরা। এখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা পাইকাররা শুধু চাল কিনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি।’

রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরপুর থাকায় বেশিরভাগের দামই অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহের মতো এখনো বাজারে দামি সবজির তালিকায় রয়েছে করলা ও ঝিঙা। বাজার ও মানভেদে করলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০-৭০, ঝিঙা ৭০-৮০ টাকা। এরপরই রয়েছে লাউ। বাজার ও মানভেদে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা। এছাড়া প্রতিটি ফুলকপি ১০-২০, বাঁধাকপি ১৫-২৫ টাকা। প্রতি কেজি শিম ১৫-২০, বেগুন ২০-৩০, শালগম ১০-২০, মুলা ১০-২০ এবং পাকা টমেটো ১৫-৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া নতুন আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৫-২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের। আগের সপ্তাহের মতো দেশি পেঁয়াজ ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি ১৫-২০ টাকা। কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়। প্রতি আঁটি পালংশাক বিক্রি হয়েছে ৫ থেকে ১৫, লালশাক ৫-১০, লাউশাক ২০-৩০ ও সরিষাশাক ৫-১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সবজি ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ সপ্তাহে সবজির সরবরাহ ছিল প্রচুর, ফলে দামও কম।’

এদিকে চায়না থেকে আমদানিকৃত আদার দাম কেজিতে কমেছে ৪০ টাকা। তবে রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকায়। আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে ডাল, ডিম, চিনি, তেলসহ সব ধরনের মুদি পণ্য। এদিন বাজারে খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, চিনি ৫০, ডাল ৪০ থেকে ৯০, সয়াবিন তেল ৫ লিটারের বোতল ৪৫০-৪৬০, খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ৮২, সরিষার তেল প্রতি কেজি ১৩০, লবণ ৩০-৩৫ টাকা।

মোহাম্মদপুর বাজারে আগের সপ্তাহের মতো ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ১৩৫-১৪০ টাকায়। লাল কক মুরগি ১৯৫-২০৫, পাকিস্তানি মুরগির কেজি ২৬০-২৮০ টাকা। গরুর মাংস আগের মতোই প্রতি কেজি ৪৮০-৫০০, খাসির মাংস ৬৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে দামের হেরফের দেখা গেছে মালিবাগ বাজারে। এ অঞ্চলের বাজারগুলোতে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হয়েছে।

এ সপ্তাহে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে রুই মাছ। বাজারে প্রতি কেজি রুই ২৫০-৫০০, পাবদা ৪৫০-৬০০, টেংরা ৫০০-৬৫০, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০, পাঙ্গাশ ১২০-১৬০, শিং ৪০০-৬০০, বোয়াল ৫০০-৮০০, চিতল বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৮০০ টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, ‘শুক্রবার বাজারে মাছের দাম চড়া থাকে। এদিন টাটকা মাছ বাজারে বেশি থাকে। তাছাড়া ক্রেতাও বেশি হয়।’ কারওয়ান বাজারে রুই মাছের ক্রেতা শরিফুল আলম বলেন, ‘গত সপ্তাহে রুই মাছের কেজি কিনেছি ২২০ টাকায়, এ সপ্তাহে কিনলাম ২৫০ টাকায়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত