শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মলাট উল্টে মেলা শুরু

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:১৪ এএম

প্রতি বছরের মতো ভাষার মাসের প্রথম দিন উদ্বোধন হলো অমর একুশে বইমেলার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধনের পর অসংখ্য মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় প্রবেশদ্বারে। সেখানে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহবুব আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আজকে মেলার প্রথম দিন, শুধুই ঘুরতে আসা। মেলার পরিবেশ দেখতে আসা।’ অনেকটা তার মতোই অবস্থা ছিল প্রকাশকদের। প্রথম দিনে বই বিক্রির চেয়ে স্টল গোছাতেই বেশি ব্যস্ত দেখা গেছে তাদের।

মেলার ভেতর ঘুরে দেখা যায়, বই সাজাতেই ব্যস্ত প্রকাশনা সংস্থাগুলো। কোনো কোনো প্রকাশনার স্টলের নির্মাণকাজও বাকি রয়ে গেছে। যারা স্টল নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন, তারা ব্যস্ত রয়েছেন নান্দনিকভাবে বই সাজাতে। আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেলার প্রথম দিন উদ্বোধনের আয়োজন শেষ হতেই বিকেল গড়িয়ে যায়। এরপর বই সাজানো আর স্টলের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েই কেটে যায় প্রথম দিন।’ মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে গিয়ে অনন্যা প্রকাশনীর সামনে কিছু তরুণ-তরুণীর ভিড় দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখা যায়, তারা বই দেখছেন। প্রকাশনীটির বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দিন তেমন বই কিনছেন না কেউ। অনেকেই এসেছেন ঘুরে দেখতে।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাসব্যাপী বইমেলা পৃথিবীর কোথাও হয় না। এটা বাংলাদেশের একটি গৌরবোজ্জ্বল দিক। তবে এই মেলাটা শুধু দেশীয় লেখকদের বই নিয়ে হয়। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলেছি, বছরে অন্তত একটি আন্তর্জাতিক বইমেলার আয়োজন করতে তিনি যেন নির্দেশনা দেন। সেখানে যেন ইউরোপ, এশিয়ার প্রকাশনাগুলো অংশ নেয়। এতে আমাদের প্রকাশনা শিল্প সমৃদ্ধ হবে।’

২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং একুশে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। শিশুদের জন্য রয়েছে শিশু চত্বর।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘এবারের মেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত ১০২টি বই। মেলায় এবারই প্রথম ‘‘লেখক বলছি’’ নামে নতুন একটি মঞ্চ করা হয়েছে। সেখানে তরুণ লেখকরা কথা বলবেন তাদের প্রকাশিত বই নিয়ে।’

মেলার উদ্বোধনী আয়োজনে সঞ্চালক রামেন্দু মজুমদার জানান, এবার নিয়ে ১৬ বার অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিশুপ্রহরে বই উৎসব : ‘কৈশোরে তারুণ্যে বই ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে বইমেলার শিশুপ্রহরে বই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টায় এ আয়োজন থাকবে। পাঠে রুচি, বই, অলংকরণ, প্রচ্ছদ, পত্রিকা, ই-বুক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সন্তানের পাঠরুচিতে অভিভাবক-লেখক-শিক্ষক-প্রকাশকের দায়িত্ব নিয়ে মতবিনিময় হবে এ উৎসবে।

কৈশোর তারুণ্যে বই ট্রাস্টের সভাপতি তুষার আবদুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিবারের মতোই এবারের একুশের গ্রন্থমেলায় শিশুপ্রহরে আমরা একত্রিত হতে চাই নতুন আয়োজন নিয়ে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত