রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সেই ২০০ পরিবার

বাড়ি ফিরলেও ঘরে উঠতে পারেনি

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২৪ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পারমল্লিকপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে নয় মাস পালিয়ে থাকা ২০০ পরিবার প্রশাসনের সহযোগিতায় বাড়িতে ফিরতে পারলেও ঘরে উঠতে পারেনি। প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বসতঘর, রান্নাঘর, শৌচাগার, নলকূপ সবকিছুই ভেঙে ফেলায় আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে তাদের রাত কাটাতে হচ্ছে। আর্থিক অনটনে অনেকে আবার বাড়িঘর মেরামত করতেও পারছেন না।

গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উজ্জ্বল ঠাকুর ও হেমায়েত হোসেন হিমুর মধ্যে বিরোধের জেরে গত বছরের ২১ এপ্রিল সংঘর্ষে উজ্জ্বল ঠাকুরের সমর্থক মিস্ত্রি খায়ের মৃধা নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পর হিমুর পক্ষের ২০০ পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে দেয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয় ঠাকুর পক্ষের লোকজন। হামলা ও সংঘর্ষের ভয়ে ওইসব পরিবারের শিশু থেকে বৃদ্ধরা পর্যন্ত গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশয় নেন।  সম্প্রতি এ নিয়ে দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। গত ২৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ওইসব পরিবারের সদস্যদের নিজ নিজ বাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়িতে উঠতে পারলেও একটু বিশ্রাম নেওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক শুকুর শেখ বাঁশ কেটে তার টিনের ঘরটি মেরামত শুরু করেছেন। তিনি জানান, তার বাড়িতে সাতটি ঘর ছিল। গোলা ভরা ধান ছিল, গরু ছিল। কিন্তু এখন একটি টিনের ঘর ছাড়া কিছুই নেই। হেমায়েত হোসেন হিমু জানান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে তারা গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে মিলেমিশে বসবাস করব।’ উজ্জ্বল ঠাকুর বলেন, ‘এত দিন গ্রামে যা হয়েছে তা আমরা ভুলে গিয়েছি।’ তিনিও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত