শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাড়ি ফিরতে মরতেও রাজি

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৩১ পিএম

বিশ্বে ক্রমশ শরণার্থীদের শরণ নেওয়ার জায়গা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। গৃহযুদ্ধ শেষ হয়েছে দশ বছর, তবু নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারছেন না শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু তামিলরা। তাদের বসতভিটা, সাধের বাগান দখল করে রেখেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শ্রীলঙ্কার মুল্লাইতিভু জেলার কেপ্পাপুলাভু তেমনই একটি তামিল অধ্যুষিত এলাকা যার দখল এখন সেনাবাহিনীর হাতে।

গত শনিবার শতাধিক তামিল কেপ্পাপুলাভুর সেনা ক্যাম্পের সামনে প্রতিবাদ করে। এ সময় তারা নিজেদের ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় সেনাবাহিনীকে। সরকার লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমকে (এলটিটিই) ওই অঞ্চলে পরাস্ত করার দাবি জানিয়ে অভিযান শেষ করলেও সেনাচৌকি সরায়নি।

নিজের বাড়িতে ফিরতে প্রয়োজনে মরতেও প্রস্তুত ৫২ বছর বয়সী শান্তি। সেনাক্যাম্পের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবি জানাতে। গৃহযুদ্ধ শেষে কেপ্পাপুলাভুর তামিলদের সেনানিয়ন্ত্রিত একটি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ক্যাম্পে তামিলদের ওপর ভয়াবহ অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে ২০১৫ সালে জাতিসংঘের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

২০১২ সাল নাগাদ সেনা নিয়ন্ত্রিত ওই ক্যাম্পটি বন্ধ কয়ে যায়। ওই ক্যাম্পে থাকা ৫৬০ জন তামিল পাশর্^বর্তী সুরিপুরমের জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। ২০০৮ সালের আগেও নিজের বাগানের আম ও নারকেল বিক্রি করে বেশ সচ্ছলই ছিলেন শান্তি। কিন্তু সেই বাগানও এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। বাস্তুচ্যুত হওয়ায় শান্তির সন্তানরা আর স্কুলে যেতে পারেনি। এখন তারা কাজ করে সংসার চালায়। ভূমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে সাড়া দিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ৫৩ হেক্টর জমি ছেড়ে দেয় সেনাবাহিনী। কিন্তু এখনো সেনাবাহিনীর ৫৯ ডিভিশন ১৪১ হেক্টর জমি দখল করে রেখেছে যার মালিক ১০৪টি তামিল পরিবার। যদিও শ্রীলঙ্কা সরকার দাবি করে, সেনাবাহিনী তামিলদের ৯০ শতাংশ জায়গার দখল ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু গত বছর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্টে বলা হয়, সরকারের এমন দাবি যাচাই করা মুশকিল কারণ কেউই বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সাহস পায় না।

শ্রীলঙ্কাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আদ্যলাম সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের মতে, মুল্লাইতিভু জেলার ১২ হাজার ১৪০ হেক্টর জমি এখনো সেনাবাহিনীর দখলে। গত বছরের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা সেনাবাহিনীকে বেসামরিক নাগরিকদের অধিকৃত ভূমির দখল ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলে সিরিসেনার মেয়াদ শেষ হলে ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আঁধারেই রয়ে যায়। সূত্র : আলজাজিরা

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত