শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চা-বিক্রেতা থেকে ‘আদর্শ’ শিক্ষক

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৬ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর চরভিটা গ্রামের চা-বিক্রেতা এরফান আলী এখন অনুকরণীয় আদর্শ শিক্ষক। দুই ভাই, ছয় বোনসহ ১০ জনের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতেই লেখাপাড়ার পাশাপাশি চা-পরোটা বিক্রির কাজ নিয়েছিলেন এরফান। তখন ওই গ্রামে শতভাগ সাক্ষরতাও ছিল না। তাই দৃঢ়প্রত্যয়ী এরফান সিদ্ধান্ত নেন, ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এই গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়াবেন। তাই পিছিয়ে পড়া এলাকায় শিক্ষা পৌঁছাতে ২০০১ সালে নিজের ধানক্ষেতে বাঁশের ঘর তুলে প্রতিষ্ঠা করেন ‘চরভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়’।

সফল হবেন না ভেবে সে সময় এলাকার মানুষ তাকে ডাকা শুরু করেন ‘পাগল এরফান’ নামে। শুরুতে এসেছিল নানা ঘাত-প্রতিঘাত। কিন্তু পেছনে তাকাননি তিনি। এলাকার দ্বারে দ্বারে ঘুরে ৪০ জন শিক্ষার্থী জোগাড় করে ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পাঠদানের অনুমতি পান এরফান আলী। এরপর পাঁচটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে রাত-দিন পড়ে থাকতেন বিদ্যালয়েই।

এরফান আলীর ঐকান্তিক চেষ্টায় গড়ে তোলা চরভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন সারা দেশের জন্য অনুকরণীয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরিপত্র জারি করে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে চরভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে। স্কুলটি সরকারীকরণ হয় ২০১৩ সালে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে ২০১৪ সালে নিজ খরচে চালু করেন মিড ডে মিল। শুরুতে প্রধান শিক্ষক এরফান আলী নিজের ও অভিভাবকদের কাছ থেকে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করে মিড ডে মিল চালু করেন। এখন আর মুষ্টি চাল নিতে হয় না। ১০০ শতক আয়তনের এই স্কুলে ৬৬ শতকের একটি পুকুর আছে। সেখানে মাছ চাষ আর হাঁস-মুরগি পালন করে বছরে আয় আসে ২ লাখ টাকার মতো। আর ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে করেছেন আমের বাগান। সেখান থেকে বছরে আয় আসে প্রায় ২ লাখ টাকা। সে আয় থেকেই এখন ৩২০ জন শিক্ষার্থীর মিড-ডে মিলের খরচ বহন করে বিদ্যালয়টি।

এ ছাড়া, এরফান আলী ২০১৫ সালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা খরচে চালু করেন সন্ধ্যাকালীন বাড়তি ক্লাস। সৌরবিদ্যুতের আলোয় সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে অতিরিক্ত ক্লাস। এতে শিক্ষার্থীরা লোখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি বাড়তে থাকে পাসের হারও। বিদ্যালয়ে ৩২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য আছেন চারজন শিক্ষক। চাপ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত তিনজন শিক্ষকও নিয়োগ করে সবার খরচ বহন করছেন এরফান আলী।

এই বিদ্যালয় মিড ডে মিলে সফল হওয়ায় ২০১৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরিপত্র জারি করে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে চরভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনুসরণ করতে নির্দেশ দেয়। চা-বিক্রেতা এরফান আলী ২০০৮ সালে ¯œাতক (সম্মান) শেষ করে এখন ওই বিদ্যালয়ের সফল প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক।  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর ডিডি (নিয়োগ শাখা) এ কে এম সাফায়েত আলী সম্প্রতি পরিদর্শনে এসে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, খুব শিগগির এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত