সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গণভবনে ভোট ডাকাতদের উৎসব হয়েছে : সুব্রত

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৬ এএম

টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার গণভবনে যে শুভেচ্ছা বিনিময় ও চা-চক্রের আয়োজন করেছিলেন তাকে ‘ভোট ডাকাতদের সম্মিলিত উৎসব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব করেন- এমন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা চা-চক্রে অংশ নেননি। সেখানে শুধু ভোট ডাকাত ও তাদের সহযোগীরা এক হয়েছিলেন ভোট ডাকাতির উৎসব করতে। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চা-চক্রে অংশগ্রহণ না করার কারণ জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে তিনি এসব কথা বলেন। একই প্রশ্ন ছিল অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমন্ত্রিত নেতাদের কাছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে প্রহসনের নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ অনেকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্য আনন্দের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর এই চা-চক্রকে ‘মকারি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে যারা গেছেন তারা মূলত সরকারেরই অংশ। তারা জনগণের প্রতিনিধি না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্র দেখে করুণা হচ্ছে। কারণ তিনি বৈধতার জন্য সবাইকে ডেকেছিলেন। সত্যিকার অর্থে যারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন তারা অবৈধ সরকারকে বৈধতা দিতে পারেন না।

প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্র ‘গরু মেরে জুতা দান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতায় চেপে বসা প্রধানমন্ত্রী কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, অবৈধ সরকার তাদের বৈধতার জন্য নানা ফন্দিফিকির করছে। তার অংশ হিসেবে এই চা-চক্রের আয়োজন করেছেন। সব রাজনৈতিক দলকে ডেকে তিনি সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জনগণের সত্যিকারের যারা প্রতিনিধিত্ব করেন তারা চা-চক্রে অংশ নেননি।  

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, যা হওয়ার কথা ছিল তাই হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সবাই যাওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করত। কিন্তু নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে বিবেচনার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট, মহাজোট ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করতে গণভবন গিয়েছিলেন সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ ৭৫টি দলের শীর্ষ নেতারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত