শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভুয়া দুই দুদক কর্মকর্তা আটক

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৯ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই ভুয়া কর্মকর্তাকে আটক করেছে র‌্যাব। আটকরা দুদক কর্মকর্তা সেজে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অন্তত ৫০০ কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ২-এর  কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, দুদক চেয়ারম্যান, কখনো কমিশনার, কখনো কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোনে দুর্নীতির মামলা আছে ভয় দেখিয়ে আনিসুর রহমান ওরফে বাবুল (৩৬) ও ইয়াসিন তালুকদার (২৩) এই টাকা হাতিয়ে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অন্তত ৫০০ কর্মকর্তাকে এমন ভয়ভীতি দেখানোর তথ্য দিয়েছে। মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন ৪১/১ সনাতন গড় বৌবাজার এলাকা থেকে আনিসুরকে আটক করে র‌্যাব-২। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী হাজারীবাগের নবীপুর লেনের একটি দোকান থেকে বিকাশ এজেন্ট ইয়াসিনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ২১টি মোবাইল ফোন ও ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত ২৬টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়। এ র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, দেশব্যাপী দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পর থেকে এই চক্রের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। তারা সরকারি টেলিফোন ডিটেক্টরি থেকে ফোন নম্বর নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের টার্গেট করে মুঠোফোনে দুর্নীতি মামলা আছে বলে ভয়ভীতি দেখাত। এর জন্য মামলার ভুয়া নম্বর দিয়ে যোগাযোগ/খোঁজ নিতেও বলত। কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ভীত হলেই তাদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করত। তিনি বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে র‌্যাব মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির তদন্তে নেমে এই চক্রের মূল হোতা আনিসুরসহ দুজনকে আটক করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের সঙ্গে আরও সাত-আটজন জড়িত এবং এক গুরুরও তথ্য দিয়েছে। মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, তাদের ৭-১০টি গ্রুপ রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিকাশের মাধ্যমে এ চক্র টাকা তুলে।

ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম সংগ্রহ ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের বিষয়ে আনিসুর জানায়, বিভিন্ন দোকানে নিম্নবিত্ত মানুষ নতুন সিম কিনতে গেলে তাদের সিম ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করে এবং তাতে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতো। এ ছাড়া বিভিন্ন সিম বিক্রির দোকান থেকে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম সংগ্রহ করে তা কাজে লাগাত। কয়েকবার একটি সিম ব্যবহারের পর তারা সেটি ফেলে দিত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত