শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছুটির দিনে জমল মেলা ধুলায় ভোগান্তি

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫২ এএম

বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশজুড়ে চলছে মাসব্যাপী ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯’। মেলার দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় খোলা হয় প্রবেশদ্বার। শুরুতেই ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ আয়োজন ‘শিশুপ্রহর’। পরে বিকেল ৩টা থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষের আগমনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে মেলা। ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অসংখ্য মানুষ মেলার মাঠে ভিড় করলেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল বলে জানান বিক্রেতারা।

মেলার মাঠে কথা হয় আবৃত্তিশিল্পী শহিদুল ইসলাম নাজুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখন শুধুই ঘুরতে আসা। তবে আজ একটা কবিতার বই কিনব। ঘুরে ঘুরে দেখব নতুন কী কী বই এসেছে।’ তাম্রলিপি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী একেএম তারিকুল ইসলাম রনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবারের মেলার আয়োজন সন্তোষজনক। মেলার দ্বিতীয় দিনেই সবকিছু অনেক গোছানো, তবে মেলার মাঠে ধুলার

পরিমাণ বেশি হওয়ায় দর্শনার্থীদের একটু কষ্ট হচ্ছে।’ একই রকম অভিযোগ করেছেন একাধিক প্রকাশক ও দর্শনার্থী। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মেলায় আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে মাঠজুড়ে যেন ধুলার রাজত্ব তৈরি হয়। মেলার ভেতরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ইট দিয়ে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে তা অনেকটা দায়সারা গোছের। রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে ছিল প্রচুর ধুলা। মেলায় আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান বলেন, ‘মেলার মাঠের সংস্কারকাজ যেভাবে করা হয়েছে, তাতে লোকজন বাড়লেই ধুলার ওড়াউড়িও বেড়ে যাবে। এজন্য ভোগান্তি পোহাতে হবে দর্শনার্থীদের।’

জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘মেলার প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়ার আগে মেলার মাঠে পানি ছিটানো হচ্ছে। তবুও ধুলার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এই বিষয়টি আমরা সমাধানের চেষ্টা করব।’

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ থেকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে মোট ৮১টি। এরমধ্যে গল্পের ১০টি, উপন্যাস ২০, প্রবন্ধ ৪, কবিতা ১৪, গবেষণা ১, ছড়া ১, জীবনী ৩, রচনাবলি ৪, মুক্তিযুদ্ধের ৪, নাটক ১, বিজ্ঞান ৩, ভ্রমণ ২ এবং ইতিহাসভিত্তিক বই রয়েছে ৫টি। তবে মেলা প্রাঙ্গণে একাধিক প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলায় আসা নতুন বইয়ের সংখ্যা আরও বেশি। এটা শুধু একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে জমা দেওয়া বইয়ের হিসাব। এদিন মেলায় আসা বইয়ের মধ্যে রয়েছেÑ সুমন্ত আসলামের লেখা উপন্যাস ‘অযান্ত্রিক’, আনিসুল হকের কিশোর উপন্যাস ‘দুষ্টু মেয়ের দল’, মঈনুস সুলতানের ‘নিকারুণুয়ার পুরাতাত্ত্বিক নগরী ও নির্জন দ্বীপ’, জাকির তালুকদারের উপন্যাস ‘মুষ্টিবদ্ধ সেই হাত’, মুনতাসীর মামুনের ‘রাজকন্যার জন্য’, শামসুজ্জামান খানের প্রবন্ধ ‘বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা ও বর্তমান বাংলাদেশ’, হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ এবং পলাশ মাহবুবের কিশোর উপন্যাস ‘বাবুদের বাজিমাত’।

আজ রবিবার মেলার প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে বিকেল ৩টায়। মেলা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন গোলাম কুদ্দুছ। আলোচনায় অংশ নেবেন রামেন্দু মজুমদার, মাহফুজা খানম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও আতিউর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। এছাড়া সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বইমেলা হালুম টুকটুকি ইকরিকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিশুরা

অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনে এ বছরের প্রথম শিশুপ্রহরে উৎসবে মেতেছিল কচিকাঁচারা। গতকাল মেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকদের হাত ধরে প্রবেশ করে শিশুরা। তাদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল কার্টুন সিরিজ সিসিমপুরের চরিত্র হালুম, টুকটুকি ও ইকরি।

ছয় বছরের বাচ্চাকে মেলায় নিয়ে আসা এক অভিভাবক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটাকে আমি বইয়ের প্রতি আগ্রহী করতে চাই। সিসিমপুরের মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকায় আমার বাচ্চা ভীষণ আনন্দ পেয়েছে এবং তার জন্য আমি কিছু বইও কিনেছি আজ।’

মেলার দ্বিতীয় দিনে শিশুদের ভিড় চোখে পড়ে। মাসব্যাপী বইমেলার এ দিনটি ছুটির হওয়ায় সকাল থেকে তরুণদের ভিড়টাও বেশি ছিল। শিশু প্রহরে আসা কোমলমতি শিশুদের শুধু খেলা নয়, বই কেনায়ও ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

অভিভাবকরা জানান, বাচ্চাদের জন্য মেলায় এই আয়োজন তাদের বই পড়ার পাশাপাশি সুযোগ দিচ্ছে উৎসবে মেতে থাকার। খেলার ছলে শিশুদের নতুন বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পেরে খুশি তারা।

বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশু-কিশোরদের মধ্যে যারা লেখালেখি করে, তাদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। শিশু চত্বর বিশেষভাবে সাজানো হবে। পুরো প্রাঙ্গণ নতুনরূপে সেজে উঠবে। শিশু চত্বরে ‘তারুণ্যের বই’ নামে একটি বিষয় যুক্ত হবে। শিশুপ্রহরের দিনগুলোতে ‘তারুণ্যের বই’ ব্যানারে শিশু-কিশোরদের বই পাঠে উৎসাহিত করা হবে।

বিকেলের আয়োজনে মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিজয় : ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও সাংবাদিক হারুন হাবীব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরী ও গবেষক মোফাখখারুল ইকবাল। এতে সভাপতিত্ব করেন ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক।

সন্ধ্যায় ছিল কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অমর একুশে গ্রন্থমেলা মাসব্যাপী চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত