মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভারতে কেমন আছে বাংলাদেশের ‘ছিটমহলবাসী’

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২৬ এএম

এখন আর কাগজে-কলমে তারা ছিটমহলের মানুষ না। সবাই ভারতীয়। কিন্তু বাস্তব জীবনযাত্রার ধরন বলছে, ছিটমহল বিনিময়ের তিন বছর পরেও নাগরিকদের ভাগ্যে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।

গত ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহল দুই দেশের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে মিশে গিয়েছিল। আর এর মধ্যেই দুই দেশের ছিটমহলের ভেতরের বাসিন্দারা নিজভূমি বদলের সুযোগ পেয়েছিলেন।

সেই সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১১১টি ভারতীয় ছিটমহলের ৩৭ হাজার ৩৬৯ জন বাসিন্দার মধ্যে ৯২১ জন (২০১৫ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর কয়েক দফায়) ভারতের মূল-ভূখণ্ডে ফিরে গেলেও ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটের ১৪ হাজার ২১৫ জন ভারতীয় হিসেবেই থেকে যান। সেখান থেকে কেউ বাংলাদেশে ফেরেননি।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৯২১ জন ভারতীয় ছিটের বাসিন্দাকে কোচবিহার জেলার দিনহাটা, হলদিবাড়ি ও মেখলীগঞ্জের তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ক্যাম্পের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বাসিন্দারা তাদের জাতীয় কাগজপত্র নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন। শিক্ষিত যুবকরা ‘বাংলাদেশি’ সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে পারছেন না।

আসমা বিবি নামের এক নারী পত্রিকাটির সঙ্গে আলাপকালে জানান, তার ছেলেকে তিনি স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না। কারণ তার কাগজপত্র নেই। তাদের মধ্যে পরিচিত কারো কারো সন্তান অন্যজনকে মা-বাবা বানিয়ে স্কুলে ভর্তি হয়েছে।

‘আমাদের জীবন প্রায় আগের মতোই আছে,’ এভাবে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন আসমা বিবি।

ছবির শেখ নামের আরেকজন বাসিন্দা জানান, তার এবং তার ছেলের ভারতীয় কোনো কাগজপত্র নেই। তাই কাজ পান না। তাদের কাজ করতে যেতে হয় অনেক দূরে- নদীয়ায়, উত্তর প্রদেশে।

২০১৫ সালের পর নাগরিকদের জীবনে বলার মতো একটি পরিবর্তন এসেছে। সবার ঘরের সামনে এখন ইঞ্জিন চালিত রিকশা দেখা যায়।

অন্নপ্রসাদ রায় নামের এক শিক্ষার্থী এই রিকশা চালিয়ে সংসারে অবদান রাখছেন। তার বন্ধু গোবিন্দ, কল্যাণ, নিরঞ্জন এবং সাধন চন্দ্র রায় সবাই গ্র্যাজুয়েট। কিন্তু কেউই সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি জোগাড় করতে পারেননি।

নাগরিকদের মধ্যে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে ভারত সরকারের প্রস্তাবিত ফ্ল্যাট কার্যক্রম নিয়ে। কেউই নিজেদের জায়গা ছেড়ে ওই ফ্ল্যাটে উঠতে চান না। ফ্ল্যাটে উঠলে তাদের জীবন আরও কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

ভারতীয় হওয়ার পরে সবাই যে অখুশি ব্যাপারটি তেমন নয়। ৮০ বছর বয়সী মনসুর আলী খুশি হওয়াদের মধ্যে একজন, যিনি নিজের জমির মালিকানা পেয়েছেন।

মনসুর বলেন, ‘৮২ বছর পর আমাদের জমির বৈধ কাগজ পেয়েছি। আমার আব্বা, দাদারা এটি দেখে যেতে পারেননি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত