সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পুরোনো বইয়ের সদ্‌গতি

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:১৮ পিএম

পড়ুয়া হলে আপনার সংগ্রহে অনেক বই থাকবে। আবার খুব বেছে বেছে সংগ্রহ করলেও এক সময় অনেক জায়গা থাকে না শেলফে। যেটাই হোক- বুঝতে নিশ্চয় পারছেন সব সময় বই যত্ন করে রাখা আসলে কঠিন ব্যাপার।

বেশির ভাগ বই-ই দ্বিতীয়বার পড়বেন না বা কাজে লাগবে না। এ ছাড়া বাসায় যথেষ্ট জায়গা নাও থাকতে পারে। আবার বাসা বদলের সময় আপনাকে কিছু বই ফেলে আসতে হয়। কিন্তু চাইলে পুরোনো বই সহজে অন্যের কাজে লাগাতে পারি। কীভাবে?

প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দিতে পারেন বই। তার পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে যেহেতু আপনার ধারণা আছে- তাই বুঝতে পারবেন কোন বইটি তার দরকার। তিনি আপনাকে পছন্দ করেন। বইটিও যত্ন করে রাখবেন। অবশ্যই পড়ে দেখবেন আপনি কী বই উপহার দিয়েছেন। একটু ভেবে-চিন্তেই উপহার দিতে হবে। 

ছোটবেলার প্রিয় বইগুলো দিতে পারেন নিজের পরিবারের কনিষ্ঠদের অথবা বন্ধুর বাচ্চাদের। এ বই নিয়ে তাদের সঙ্গে গল্প করতে পারেন। বুঝতে পারবেন এ সময়ের বাচ্চাদের চাওয়া-পাওয়া।

তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে না দিয়ে এতিমখানা বা বিদ্যালয়ের পাঠাগারে বই দিলে আরও বেশি পাঠকের উপকার হবে। তবে নিশ্চিত হয়ে নেবেন ওই সব প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের বয়স অনুসারে আপনার সংগ্রহে বই আছে কিনা। বাচ্চাদের উপযোগী বইয়ের পাশাপাশি দিতে পারেন কিছু রেফারেন্স বই, পুরোনো ডিকশনারি ও এনসাইক্লোপিডিয়া। এ সব বই বেশি জায়গা দখল করলেও বাচ্চাদের সামনে নতুন জগত খুলে দিতে পারে। এ ছাড়া শিশুতোষ ধ্রুপদি বইগুলোর স্থান হতে পারে এতিমখানা। যা ওই সব পাঠকদের আশাবাদী করে তুলবে।

বইয়ের ধরন বুঝে স্থানীয় পাঠাগার ও কলেজে দান করতে পারেন। যারা গবেষণা করতে চান তাদের অনেক ধরনের বই প্রয়োজন হয়। আপনার দেওয়া একটি বই হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে লেগে যাবে।

দেওয়ার মতো এতিমখানা বা কলেজ খুঁজে না পেলে বা ব্যাপারটা শ্রমসাধ্য হলে- আশপাশের এনজিওগুলোতে খোঁজ নিতে পারেন। অনেক এনজিও আছে যারা সুবিধাবঞ্চিতদের কাছে বই পৌঁছে দেয়। তাদের স্কুল বা প্রতিষ্ঠানের পাঠাগারে বইগুলো থাকলে অনেকেই উপকৃত হয়।

বই হতে পারে রূপকথার মতো সারপ্রাইজ গিফট। তবে ঝুঁকি থেকে যায়- বইটি আগ্রহী কারো হতে পড়ছে কিনা। পার্ক, বাস অথবা ট্রেনের সিটে বই রেখে আসতে পারেন। আর বইয়ের ভেতর একটা বার্তা রেখে আসতে পারেন যে পড়ুয়াদের জন্য উপহার।

হয়তো শেলফের জায়গা খালি করতে চান। তার মানে এই নয়, বই পড়া বাদ দেবেন। সে ক্ষেত্রে বই অদলবদল করতে পারেন। আপনার বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে এ কাজ করতে পারেন। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ধরনের গ্রুপ রয়েছে। সেখানে জানাতে পারেন কোন বইটি চান, এর বদলে আপনি কী দিতে চান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত