রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ হলে

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০৬ পিএম

অগ্ন্যাশয় শব্দটির সঙ্গে আমরা মোটামুটি অনেকেই পরিচিত আবার অনেকের কাছে শব্দটি একেবারেই নতুন বলে মনে হচ্ছে। সহজ বাংলায় বলতে গেলে আমরা খাদ্য গ্রহণের পর যে গ্রন্থের মাধ্যমে আমাদের খাদ্য পরিপাক হয়, সেই গ্রন্থিকেই অগ্ন্যাশয় বলে।

 অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ কী এবং কেন হয়

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অগ্ন্যাশয় প্রদাহ মোটামুটি পরিচিত একটি রোগ। এটা এমনই এক ধরনের প্রদাহ, যা আমাদের ওপরের পেটের বাম পাশে অবস্থিত অগ্ন্যাশয় নামক পাতার মতো গ্রন্থিতে অসহনীয় তীব্রমাত্রার (ব্যথা) সংক্রমণ থেকে অনুভূত হয়। এই ব্যথা ওপরের পেটে বামদিকে এমনকি পিঠের দিক পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

সাধারণত পাশ্চাত্যে এই রোগের প্রধান কারণ মদ্যপান। এ ছাড়াও রয়েছেÑ পিত্তথলির পাথর, যেকোনো ধরনের (পেটে) শারীরিক আঘাত, গিঁটে ব্যথা রোগ, সংক্রমণ (ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়াজনিত), কিছু ওষুধ (অ্যাজাথাইয়াপ্রিম, ডেলপ্রোয়িক এসিড) ইত্যাদি।

সাধারণভাবে এ ব্যথা দুই ধরনের হতে পারে

- স্বল্পকালীন/সাময়িক

- দীর্ঘস্থায়ী (যা বারবার অনুভূত হয়) লক্ষণসমূহ

- ওপরের পেট ও পিঠের বরাবর তীব্র ব্যথা।

- বমি হওয়া অথবা বমি বমি ভাব হওয়া।

- তীব্র ঘাম হওয়া, অস্থিরতা।

- জ্বর বা জ্বর জ্বর ভাব।

- কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেটের চামড়ায় নীলচে রং ধারণ করে অথবা পেট শক্ত হয়ে যেতে পারে।

-ক্ষেত্রবিশেষে রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসমূহ

- রক্তে শ্বেতরক্ত কণিকার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

- রক্তে অ্যামাইলেজের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

- বিটি এবং সিটি দেখতে হবে।

- আল্ট্রাসনোগ্রাম ও বুকের এক্স-রে প্রভাব

-কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।

- শরীরের রক্ত জমাটবাঁধা রোগ হতে পারে।

-শ্বাসকষ্ট ও লবণ ঘাটতিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

- পরে অগ্ন্যাশয়ের অন্য জটিল রোগ যেমন পুঁজ জমা, সিউডোসিস্ট ইত্যাদি হতে পারে।

 

চিকিৎসা পদ্ধতি

- প্রধান চিকিৎসা হলো রোগীকে মুখে কোনো খাবার না দেওয়া এবং শিরাপথে বা নল দিয়ে খাবার দেওয়া।

- যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করা।

- রোগীর পানিশূন্যতা রোধ করা।

- ব্যথানাশক ও বমি রোধে ওষুধ দেওয়া।

- শ্বাসকষ্ট হলে অক্সিজেন দেওয়া।

- অবস্থা সংকটাপন্ন হলে স্পেশালাইজড ইউনিটের সাহায্য নিতে হবে।

বড় কোনো সমস্যার শুরু হওয়ার আগেই ছোট কোনো সমস্যা থেকেই প্রতিকার করা উত্তম। তাই উপরোক্ত লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়া মাত্রই কোনো ধরনের অবহেলা নয়, যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত

ডা. ফারহানা আক্তার

এমবিবিএস, ডিএমইউ

মেডিকেল অফিসার (ডায়ালাইসিস ইউনিট)

কিডনি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড

রিসার্চ ইনস্টিটিউট

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত