শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পদ্মায় নাব্য সংকট

দৌলতদিয়ায় আটকা পড়েছে পণ্যবাহী ৩৫ জাহাজ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫১ পিএম

দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌপথে নাব্য সংকটে পণ্যবাহী ৩৫টি জাহাজ আটকা পড়েছে। পদ্মার পানি কমতে থাকায় নদীর বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য ডুবোচর। এতে গভীরতা হারিয়ে আটকা পড়ছে পণ্যবাহী কার্গো জাহাজগুলো। ফলে উত্তরাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন খরচ এবং গুনতে হচ্ছে মালিকদের বাড়তি টাকা।

বিআইডব্লিউটিএর হিসেবে অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় নাব্য সংকটের কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ৩৫টি জাহাজ নোঙর করেছে। সেখান থেকে ছোট ছোট বোলগেট ও ট্রলারে মালামাল লোড-আনলোড করে নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ীর উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে।

দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, নোঙর করা জাহাজগুলোর অধিকাংশই সার, কয়লা, সিমেন্ট, গম, ভুট্টা, ক্লিংকার, পাথরসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্য ভরা। এসব পণ্যবাহী জাহাজ থেকে পণ্যসামগ্রী ছোট ছোট বোলগেট ও ট্রলারে আনলোড করছেন শ্রমিকরা। লোড-আনলোড শেষে এসব নৌযান সিরাজগঞ্জ, পাবনার নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ীর উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। ফলে গন্তব্যে পণ্য পৌঁছে দিতে যেমন দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে তেমনি দৌলতদিয়া প্রান্তে দীর্ঘ সময় কার্গোগুলো অপেক্ষমাণ থাকায় দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন খরচ।

চট্টগ্রাম, মংলা ও নারায়ণগঞ্জ নৌবন্দর থেকে পণ্যবাহী জাহাজ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া দিয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌবন্দরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এ রুটে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত জাহাজ এমভি নৌমনির ফেরি মাস্টার রহমত আলী জানান, পদ্মা নদীতে সাড়ে ১২ থেকে ১৩ ড্রাফটের জাহাজ চলাচলে কমপক্ষে ১৩ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন। অথচ বর্তমান পানির গভীরতা রয়েছে মাত্র ৬ থেকে ৮ ফুট। তাই নাব্য সংকটের কারণে তাদের জাহাজগুলো রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এসে নিরাপত্তাজনিত কারণে নোঙর করেছে। দীর্ঘ সময় এখানে থাকতে খাওয়াদাওয়াসহ অনেক সমস্যা হচ্ছে। অনেকে নদীর পাড়ে পলিথিন টাঙিয়ে রাত্রি যাপনসহ রান্নার ব্যবস্থা করছেন। তিনি জানান, প্রতিবছরই নাব্য সংকটে এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ড্রেজিং করলে এ সমস্যায় তাদের পড়তে হয় না।

আরিফ ট্রান্সপোর্টের প্রতিনিধি মনিরউদ্দিন সরদার বলেন, প্রতিদিন চার-পাঁচটি জাহাজের মালামাল দৌলতদিয়ায় লোড-আনলোড করা হয়। বাঘাবাড়ী-নগরবাড়ী যেতে মোল্লার চর, নাকালিয়া, কইটুলায় নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায়  দৌলতদিয়া প্রান্তে জাহাজ নোঙর করানো হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এভাবেই কাজ করছেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিএর (আরিচা, পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া) সহকারী পরিচালক আবদুর রহিম বলেন, এ সময় তাদের ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নদীতে যে পরিমাণ নাব্য থাকে সে অনুযায়ী ড্রাফট-সীমা দেওয়া থাকে। কিন্তু এ রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলো অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে দৌলতদিয়ায় এসে কিছুটা খালাস করে নির্দিষ্ট ড্রাফট-সীমার মধ্যে এনে গন্তব্যে রওনা হয়। এই সময়টা তারা অপেক্ষা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত