শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভবদহের বিলগুলোতে বোরো আবাদ হচ্ছে না

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৯ পিএম

যশোরের ভবদহ অঞ্চলের বিলের পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় বোরো চাষ করতে পারছেন না কৃষক। পলি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয়রা। অপরদিকে, সরকার এ এলাকায় জোয়ারাধার (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-টিআরএম) প্রকল্প বাদ দেওয়ায় আবার জলাবদ্ধতার শঙ্কায় রয়েছে যশোর ও খুলনার পাঁচ উপজেলার মানুষ।

স্থানীয় পানি কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, ভবদহ এলাকার কৃষকরা অধিকাংশই বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল। বোরো চাষ না করতে পেরে হতাশ হয়ে পড়েছে তারা। যশোরের কেশবপুর, মনিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলা এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ২৭টি বিল ও তিনটি নদীর চৌমোহনীতে ভবদহের অবস্থান। এসব বিল ও নদীর পানি ভবদহে জমা হয়ে খুলনার শিবসা নদী হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। ওই সব নদী ও বিলগুলো পলিসমৃদ্ধ হওয়ায় তাদের পানিনিষ্কাশনের পথ ভবদহে নিয়মিত পলি জমা হয়। এ পলি নিয়ম মেনে অপসারণ করা না হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি উপচে পড়ে লোকালয়ে লাখো মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন সময় স্লুইসগেট নির্মাণ ও খাল কেটে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয়রা সুফল পান ২০০৬ সাল থেকে। এ বছরে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) অথবা জোয়ারাধার ব্যবস্থাপনা নামে নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সরকার। এতে দ্রুত পলি অপসারিত হয়ে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলে এলাকায়। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পটি। এতে পলি জমে মুক্তেশ্বরী, টেকা ও হরি নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে বিলগুলোতে আবার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

ভবদহ পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল জাহিদ বলেন, ‘নদীগুলোর যা অবস্থা তাতে আমরা রীতিমতো চিন্তিত। সমস্যা সমাধানে টিআরএমের কোনোই বিকল্প নেই। মেশিন দিয়ে পলি কেটে ব্যক্তিবিশেষের ব্যবসা হতে পারে, কিন্তু তাতে নদী রক্ষা হবে না।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড, যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, নদীগুলোর অবস্থা ভালো না। স্লুইসগেটের সামনেও পলি জমে গেছে।

ভবদহ পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালি বলেন, ‘ড্রেজিং করে কখনো নদী বাঁচানো যাবে না। একমাত্র পথ হলো টিআরএম। অথচ সেই প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে আন্দোলন শুরু করেছি।’

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক এমদাদ হোসেন বলেন, ভবদহে জলাবদ্ধতা এবং পানিতে লবণের ভাগ বেশি থাকায় এখানে ধানের আবাদ করতে পারছে না চাষিরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত