বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফাইনালে ওঠার লড়াই শুরু

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৫২ এএম

গেলবার বড় কষ্টে শেষ চার নিশ্চিত করেই দুর্ধর্ষ হয়ে উঠেছিল রংপুর রাইডার্স। ঢাকা পুরো আসরে ছিল দুর্দান্ত। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স শিরোপার দাবিদারের মতো খেলছিল। কেবল চিটাগং ভাইকিংসের নামটা ছিল অনুপস্থিত। এই চারের মধ্যে কেউ জিতবে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা। আসল লড়াই আজ শুরু। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যার ম্যাচে কুমিল্লাকে হারাতে পারলে ফাইনালে উঠে টানা শিরোপার জোর দাবিদার হয়ে যাবে রংপুর। তার আগে দুপুরের এলিমিনেটর ম্যাচটিতে ঢাকা ডায়নামাইটস ও চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে জয়ী দল সুযোগ পাবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলার। হারলে অবশ্য বিদায়।

রংপুর-কুমিল্লা ম্যাচের হারা দলের সুযোগ থাকবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলার। বুধবার অনুষ্ঠেয় ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ঢাকা-চিটাগং ম্যাচের জয়ীরা। বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন দাঁড়িয়ে পাঁচ স্তম্ভের ওপর। খুলনা টাইটান্সকে নেতৃত্ব দেওয়া মাহমুদউল্লাহ শুধু নেই শেষের এই রোমাঞ্চ ছড়ানোর অপেক্ষায় থাকা লড়াইয়ে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুরের নেতৃত্বে আছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, সাবেক চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা তামিম ইকবালের দল, গতবারের রানার্সআপ ঢাকার নেতা সাকিব আল হাসান। আর মুশফিকুর রহীমের দল এবার সবাইকে চমকে দিয়ে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখানো চিটাগং। এক মলাটে চার স্তম্ভ! একই দিনে ভিন্ন চার দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা দাবিতে এগিয়ে যাওয়ার জোর লড়াই। এমনটা দেখা যায়নি আগে।

তবে সবার মধ্যে পারফরম্যান্সের বিচারে এখন রংপুরকে সেরা বলতে হবে। বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে হারা চ্যাম্পিয়নরা খোঁড়াতে শুরু করেছিল। পরে ভয়ংকর চার বিদেশি ব্যাটসম্যানে ভর করে শেষের ছয় ম্যাচ জিতেছে টানা। দলে মাশরাফী ম্যাজিক তো আছেই। গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে এই কুমিল্লাকেই যেভাবে লজ্জা দিয়ে গুঁড়িয়েছে সেও এক উদাহরণ। উদাহরণ, বোলারদের জ্বলে উঠে কোয়ালিফায়ারের আগে নির্ভরতা জোগানোর। শেষ চারের শীর্ষ দল রংপুর।

ক্রিস গেইল গতবার এলিমিনেটর ম্যাচে অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছিলেন খুলনার বিপক্ষে। এই আসরের ১০ ম্যাচের একটিতেও ক্যারিবিয়ান বিস্ফোরণের আসল চেহারা দেখা যায়নি। মোটে ১৪২ রান। ফিফটি একটি। বড় উপলক্ষে তার দিকে তাকিয়ে রংপুর। গেল আসরের ফাইনালেও অবিশ্বাস্য এক অপরাজিত সেঞ্চুরিতে প্রায় একা হাতে ঢাকার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়েছিলেন। এবি ডি ভিলিয়ার্স চলে গেছেন। অ্যালেক্স হেলস দেশে ফিরেছেন ইনজুরিতে। তাদের জায়গা এখন রবি বোপারা ও বেনি হাওয়েলের। সুখের কথা রংপুরের বোলিং আরও আগুন ছড়াচ্ছে। মাশরাফী নিজে যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৯ উইকেট নিয়ে। ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্য এক সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটিতে অবিশ্বাস্য টুর্নামেন্ট কাটাতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকান রাইলি রুশো। কুমিল্লা সহজ প্রতিপক্ষ কি না সেই প্রশ্নে মাশরাফীর সাফ জবাব, ‘না। পরের ম্যাচে কী হয়...। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ তো আসলে সত্যিকার অর্থে আসছে সামনে। ভালো যে, আমরা দুইটা সুযোগ পাব।’ জয় নিশ্চিত ধরে রাখছেন না।

এবারের আসরের গ্রুপ পর্বে দুই দেখাতেই রংপুরের কাছে পরাজিত কুমিল্লা। ইমরুল কায়েসের দলও রংপুরের সমান পয়েন্ট নিয়ে কোয়ালিফায়ারে। কিন্তু রানরেট সামান্য কম বলে দ্বিতীয়। এখন তাদের ব্যাটিংয়ের ভরসা দেশিরা। যেখানে টানা ব্যর্থ এনামুল হক বিজয়, হঠাৎ জ্বলে ওঠা শামসুর রহমান, কখনো কখনো জ্বলেন এমন ইমরুল। সমস্যা হলো ওপেনার তামিম ব্যর্থ হলে বড় প্রভাব পড়ে দলে। থিসারা পেরেরার মতো ভয়ংকর কিংবা লিয়াম ডসনের মতো বুদ্ধিমান ব্যাটসম্যানের ওপর চাপ গিয়ে পড়ে বেশি। টুর্নামেন্টের প্রায় শেষটাতেও তাদের বোলিং আক্রমণের কম্বিনেশন না মেলাটাই ঝামেলার। রংপুর এই সুযোগটা নিশ্চিতভাবে নেবে।

রংপুরের ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারা কুমিল্লার বিপক্ষে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকার কথা স্বীকার করলেন গতকাল অনুশীলনে, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয় এটাই ব্যবধান গড়ে। কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক অ্যাডভান্টেজ তো আছে। তাদেরও ভালো ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে এমন পরিস্থিতিতে খেলার। কঠিন একটা লড়াই আশা করছি।’

ওদিকে, দিনের শুরুটা হবে সাকিব ও মুশফিকের লড়াইয়ে। প্রাক টুর্নামেন্ট ফেভারিট ঢাকা। চিটাগং হিসাবেই ছিল না। টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচ টানা জিতে ঢাকা আরও টগবগে। চিটাগং উদ্বোধনী ম্যাচে রংপুরকে হারানোর পর চমকে দিল। জিতেই চলল। মাঝে হোম চট্টগ্রামে গিয়ে টানা তিন ম্যাচ হারা পথ হারানোর একমাত্র নিদর্শন। নইলে শেষের দিকেও ধারাবাহিক তারা। তৃতীয় দল হিসেবে শেষ চারে। যেখানে সাকিবরা শেষের দিকে টানা চার ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল। শেষ ম্যাচ জিতে চতুর্থ তারা।

কিন্তু ঢাকার মতো তারকাসজ্জিত দল আসলে চায় তো শিরোপা। তিন ক্যারিবিয়ান সুনিল নারিন, আন্দ্রে রাসেল, কাইরন পোলার্ডের হাতে থাকছে অনেক কিছু। ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন পেছনেরটা ভুলে গতকাল জানালেন, ‘আমরা অনেক ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। এমনটা হতেই পারে।’ কোয়ালিফায়ারে খেললে ফাইনালের জন্য একটি ম্যাচ হয়তো কম খেলতে হতো। সেটা ধরে নিলেও চিটাগংকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ঢাকা। সুজন বলছিলেন, ‘মুশফিক সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দারুণ কিছু ইনিংস খেলেছে, টুর্নামেন্টে দারুণ ফর্মে আছে। এছাড়া ওদের বেশ কিছু ক্রিকেটারও দারুণ খেলছে।’

মুশফিক টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের মালিক। দেশিদের মধ্যে সেরা। তাদের অবিশ্বাস্য ম্যাচ উইনার অলরাউন্ডার রবি ফ্রাইলিনক ইনজুরি থেকে ফিরতে পারেন। খালেদ আহমেদ, আবু জায়েদ রাহী ফর্মে। তবে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাস জোগাবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দুটি। প্রথম দেখায় উইকেটে জেতার পরেরটিতে ঢাকাকে রানে হারিয়েছিল। কিন্তু এটাও সত্য, শেষের লড়াইয়ে কত হিসাব যে মাঠে পাল্টে যায়!

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত