শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বইয়ের গন্ধে মেলা মৌ মৌ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩০ এএম

নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর লেখক-পাঠকের সমাগমে প্রাণবন্ত হয়েছে উঠছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯’। তৃতীয় দিন গতকাল রবিবার মেলার প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয় বিকেল ৩টায়। এর পর থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে থাকেন মেলায়। স্টলগুলো নতুন বই নিয়ে অপেক্ষায় থাকে ক্রেতাদের জন্য। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই ভিড় বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের। কেউ বই কিনছেন, কেউবা স্টলে ঘুরে ঘুরে নতুন বই দেখছেন। খোঁজ নিচ্ছেন প্রিয় লেখকের বইয়ের।

মেলায় আসা দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী। মনে হয়, তরুণ প্রাণ এসে মিলেছে নতুন বইয়ের ঘ্রাণে। এবারের মেলায় তরুণ কবি মাজহার সরকারের ‘চিৎকার রণিত হৃৎপিণ্ডে’ নামের নতুন একটি কাব্যগ্রন্থ মেলার দ্বিতীয় দিন এসেছে। আর ‘নেমক হারাম’ নামের একটি উপন্যাস আসবে দু-একদিনের মধ্যে। কবি মাজহার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবারের মেলায় প্রথম দিন থেকেই লোকজনের ভিড় দেখা যাচ্ছে। তরুণরাই বেশি আসছেন। প্রতিবারই মেলায় এসে প্রাণ পাই। অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, এটা ভীষণ ভালো লাগার।’

বইমেলায় এখন ব্যবসায়িক দিকটাই বেশি মুখ্য হয়ে উঠছে বলে মনে করেন শিশুসাহিত্যিক আহমাদ মাযহার। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বইমেলা উপলক্ষেই দেশে এসেছেন তিনি, মেলার পরই ফিরে যাবেন প্রবাস জীবনে। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা হয় তার। তিনি বলেন, ‘আগে মেলার পরিসর ছোট ছিল, কিন্তু সেখানে লেখক-পাঠকের মাঝে প্রাণ সঞ্চারিত হতো। এখন মেলার পরিসর বেড়েছে। কিন্তু এখানে ব্যবসায়িক দিকটাও বড় হয়ে উঠেছে। ফলে এটা ধীরে ধীরে বইয়ের বাণিজ্যমেলায় রূপ নিচ্ছে।’

সরেজমিনে দেখা যায় অব্যবস্থাপনার কিছু চিত্র। মেলায় আসা দর্শনার্থী এবং প্রকাশকদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন ধুলোর ভোগান্তি নিয়ে। তাদের দাবি, মেলা কমিটি যেন বিষয়টি বিবেচনা করে।

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘মেলার প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়ার আগেই পুরো মাঠে পানি দেওয়া হয় যেন ধুলোর ভোগান্তি কম থাকে। তবুও ধুলোর ভোগান্তি নিয়ে কিছু অভিযোগ এসেছে, আমরা সেটি সমাধানের চেষ্টা করছি।’

মেলার তৃতীয় দিনে নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বইমেলার তৃতীয় দিন মেলায় এসেছে ১৩৮টি নতুন বই। এর মধ্যে রয়েছে গল্পগ্রন্থ ২০টি, উপন্যাস ২০টি,         প্রবন্ধের ১৫টি, কবিতার ২০টি, গবেষণার ৪টি, ছড়ার ৮টি, শিশুসাহিত্য ১০টি, জীবনীগ্রন্থ ৬টি, রচনাবলি : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ৬, বিজ্ঞানভিত্তিক ২টি, ভ্রমণবিষয়ক ৩টি, ইতিহাসভিত্তিক ৫টি, রাজনীতিবিষয়ক ৩টি, স্বাস্থ্যবিষয়ক ৩টি, রম্য/ধাঁধা ১টি, অনুবাদ ২টি, সায়েন্সফিকশন ২টি, অন্যান্য ৮টি। তৃতীয় দিন মেলায় আসা নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছেÑ অসীম সাহার লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘পূর্ব-পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎ¯œায়’। এটি প্রকাশ করেছে জলতরঙ্গ পাবলিকেশন। মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা কিশোর উপন্যাস ‘যখন টুনটুনি তখন ছোটাচ্চু’। প্রকাশ করেছে অনুপম প্রকাশনী। জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের লেখা প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বাঙালি জীবনের চলাচল’। এটি প্রকাশ করেছে ‘পুঁথিনিলয়’। পূরবী বসুর লেখা প্রবন্ধগ্রন্থ ‘আলোকিত সহোদরা’। এটিও প্রকাশ করেছে পুঁথিনিলয়। পীরচাঁনের পালা নরওয়ের নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের ‘পিয়ের গিন্ট’ অবলম্বনে সৈয়দ শামসুল হক লিখেছেন নাটক পীরচাঁনের পালা। এবারের মেলায়ও নতুন বইয়ের সারিতে রয়েছে বইটি। এই বইটি প্রকাশ করেছে চারুলিপি প্রকাশন। জগদীশ ফরহাদ মজহার মূলত কবি। কাজ করেন বিজ্ঞান ও আর্থসামাজিক গবেষণার নানা ক্ষেত্রে। এবারের মেলায় এসেছে তার লেখা নতুন বই ‘জগদীশ’। বইটির মূল্য ২২৭ টাকা। কবি-নাট্যকার শুভাশিস সিনহার লেখা নাট্যগ্রন্থ ‘রুধিররঙ্গিণী’ প্রকাশ করেছে বাতিঘর প্রকাশনী। বইটির মূল্য ১৩৪ টাকা। পাঠ্যবই চৈতন্য প্রকাশনী থেকে এসেছে মুজিব ইরমের কাব্যগ্রন্থ ‘পাঠ্যবই’। 

সোমবার মেলার মূল মঞ্চে যা থাকবে : আজ সোমবার গ্রন্থমেলার চতুর্থ দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত