রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পুলিশ সপ্তাহ শুরু আজ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩২ এএম

‘পুলিশ জনতা ঐক্য গড়ি, মাদক-জঙ্গি নির্মূল করি’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সোমবার শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি সারা দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি কন্টিনজেন্ট এবং পতাকাবাহী দলের প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবারের পুলিশ সপ্তাহে প্যারেড অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন সদর দপ্তরের এআইজি আবিদা সুলতানা। তার নেতৃত্বে প্যারেডে অংশ নিচ্ছেন সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য। তিনি আরও বলেন, গত বছর সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪০ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম, ৬২ জনকে পিপিএম, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ১০৪ জনকে বিপিএম (সেবা) এবং ১৪৩ জনকে পিপিএম (সেবা) প্রদান করা হবে। এছাড়া ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিন এবং কনস্টবল শামীম মিয়াকে বিপিএম মরণোত্তর পদক দেওয়া হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহে বিপিএম ও পিপিএম পদকপ্রাপ্তদের প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ব্যাজ পরিয়ে দেন। কিন্তু এবার পদকপ্রাপ্ত পুলিশের সংখ্যা ৩৪৯। এত সংখ্যক সদস্যকে পদক পরিয়ে দেওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার। এ কারণে গত সোমবার আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে পুলিশ সপ্তাহের সভা হয়। এতে পদকপ্রাপ্তদের বুকে পদক লাগিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপার নিউমারারি পদ সংখ্যা বৃদ্ধি, আইজিপির ফোরস্টার পদের মর্যাদা দেওয়া, নতুন আরও এক লাখ পুলিশ নিয়োগ, সব সদস্যের জন্য বিশেষ ভাতা চালু, পুলিশ মেডিকেল কলেজ চালুর প্রস্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।

এবার পুলিশ সপ্তাহের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্মেলন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মেলন, ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সম্মেলন, আইজি’জ ব্যাজ প্রভৃতি।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, পুলিশ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা বিধানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জঙ্গিবাদ দমন ও মাদক নির্মূলে তাদের ভূমিকা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের দক্ষতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ বিশ্বে ‘রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশের সব প্রয়োজন ও সংকটকালে পুলিশ জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলসমূহ এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত