শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ডাকসু নিয়ে রিজভী

ভোট ডাকাতিতে নতুন সংযোজন হবে

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৫ এএম

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনও হবে মহাভোট ডাকাতির আরেকটি সংযোজন। গতকাল রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘মহাভোট ডাকাতির’ নির্বাচনের পর ‘ভুয়া ভোটের’ সরকারের অনুগত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। দুর্দশাগ্রস্ত গণতন্ত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ কতটুকু সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে এ নিয়ে জনমনে নানা রকম সংশয় রয়েছে। কারণ এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ও হলে হলে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত হয়নি। ক্যাম্পাসগুলো একদলীয় দুঃশাসনের প্রবল প্রতাপের অংশীদার বলেই এখন শিক্ষার উৎকর্ষতার চেয়ে চা-শিঙাড়া-চপ-এর উৎকর্ষতার বাণী শুনতে পাওয়া যায়।

গত শনিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে চা-চক্রের সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, নির্বাচনপরবর্তী চা-চক্রে শেখ হাসিনার সদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারা দেখা গেছে। এর বাইরে সরকারের আনুকূল্য পাওয়া ‘উৎফুল্ল উচ্ছিষ্টভোগী’ রাজনীতিবিদদের চেহারা দেখে জনগণের মনে হয়েছে তারা আনন্দে মাতোয়ারা। তাদের এই আনন্দ একটি সামাজিক পাপ। চা-চক্রে দেশের গণতন্ত্রমনা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণরত কোনো রাজনৈতিক দলই অংশ নেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য চায়ের আমন্ত্রণ ছিল তার সরকারি বাসভবন গণভবনে। তবে এতে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের শরিক দলসহ কয়েকটি সমমনা দল অংশ নেয়। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর এই আমন্ত্রণে সাড়া দেননি।

রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, এক ব্যক্তির একদলীয় শাসন নিরাপদ করতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকানো হয়েছে। সারা দেশে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী এখন কারাগারে। গায়েবি মামলায় এমন সব মানুষদের জড়ানো হয়েছে, যা শুধু অদ্ভুতই নয়, এটি নিষ্ঠুর তামাশা। কবরে শায়িত লাশ, পক্ষঘাতগ্রস্ত রোগী, হজ পালনরত ব্যক্তি, বহুদিন ধরে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীনভাবে মামলার আসামি করা হয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী তারা মিয়া, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে অচল টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের শামসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্গাচাষি মিলন মিয়া ও ঢাকার আতর বিক্রেতা হাতকাটা ইউসুফসহ অসংখ্য হতদরিদ্র ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের। এরা নাকি রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী।

তিনি বলেন, ‘যে রাষ্ট্র এত বিবেকহীন, মনুষ্যত্বহীন ও নিষ্ঠুর রক্তপিপাসু কেবলমাত্র সেই রাষ্ট্রেই উল্লিখিত ব্যক্তিদের অপরাধী বানানো হয়। সুতরাং সেই রাষ্ট্র পরিচালকদের অর্থাৎ অবৈধ সরকারের পতনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা ন্যায়সঙ্গত।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশারফ হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও মুনীর হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত