রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কে এই আবু সালেক?

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৫৫ পিএম

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর ভুলে বিনা দোষে জেলখানায় বাস করে সম্প্রতি ছাড়া পাওয়া জাহালম আলোচিত হলেও, আড়ালেই রয়ে গেছে আবু সালেক। যার জন্যই নিরপরাধ জাহালমকে ভোগ করতে হয় তিন বছরের হাজতবাস। কে এই আবু সালেক?

আবু সালেক বছর খানেক ধরে লাপাত্তা। বাড়িতেও নেই কোনো খবর। আবু সালেকের আলিশান বাড়িটি পরে আছে নিস্তব্ধ। বাড়িতে বাবা-মা এবং বিবাহিত বোন থকলেও সারাক্ষণই বাড়িটি থাকে ভেতর থেকে তালাবদ্ধ। তেমন কেউ যায় না ওই বাড়িতে।

আবু সালেক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। চার ছেলেমেয়ের তৃতীয় সন্তান আবু সালেক । আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পর আবু সালেক দুই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বছরখানেক সংসার হওয়ার পর বিচ্ছেদ হয় তাদের। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সালেকের বাবা-মার বনিবনা না হওয়ায় তিনি আর শশুরবাড়ি আসেন না বলে জানায় এলাকাবাসী।

সালেকের পিতা আবদুল কুদ্দুস জানান, এসএসসি পরীক্ষার পর বকা খেয়ে ঢাকায় পাড়ি জমায় আবু সালেক। সংসারে একমাত্র ছেলে হওয়ায় পরিবারের শাসন মানতে চাইত না সে। সালেক ঢাকায় থাকলেও পরিবারের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ করত না। তবে ঢাকায় ভোটার আইডি কার্ড (এনআইডি) তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিল সে।

ওই গ্রামের আনসারুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও আবদুর রশিদ জানায়, হঠাৎ বড় লোক হয় ওঠে আবু সালেক। বাড়িঘর কাঁচা থাকলেও হঠাৎ করে আলিশান দালান নির্মাণ করে সে। বাড়ির সাজসজ্জা, গেট চোখে পড়ার মতো। গ্রামের বাড়িতে সম্পদ না করলেও বোনের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় টেলিভিশনের শোরুম চালু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসে আবু সালেক। সেখানে বেশ কিছু জমিও কিনেছে  বলে জানা গেছে।  

সালেকের বাবা আবদুল কুদ্দুস তার ছেলের অপকর্মের শাস্তিও দাবি করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, তার টাকায় গ্রামে বাড়ি তৈরি হয়নি। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া আবাদি ২০ বিঘা জমি থেকে সালেকের বাবা সংসার পরিচালনা ও ঘর নির্মাণ করেছেন বলেও দাবি করেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুদকের ভুলে জাহালম হাজতবাস করার নিন্দা জানিয়ে আবু সালেকের শাস্তি দাবি করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সিঙ্গিয়া গ্রামবাসী।

বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুর-এ আলম ছিদ্দিকি মুক্তি বলেন, আবু সালেক একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে এলাকায়ও অভিযোগ আছে। তিনি সালেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

২০১০ সালে সোনালী ব্যাংকের মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখা থেকে সাড়ে আঠারো কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়। এই অপরাধে বিনা দোষে তিন বছর জেলহাজতে কাটান টাঙ্গাইলের জাহালম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত