সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আবার উড়ল লাল সবুজের পতাকা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:২২ পিএম

৩৩ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘ড্রেজার জুনিয়র হাইস্কুল’ অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার পরিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দিন আহমদ স্কুলটির শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে তালা খুলে দেন।

স্কুলটি পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বইছে উচ্ছ্বাসের হাওয়া। স্কুলটি চালু করায় এবং এর দায়িত্ব নেওয়ায় এমপি সেলিম ওসমানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।  

সোমবার সকাল ১১টার দিকে স্কুলটিতে আসেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার পরিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দিন আহমদসহ ড্রেজার পরিদপ্তরের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। স্কুলটির শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে তালা খুলে দেন তিনি। প্রাঙ্গণে হাজির হতে থাকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। শিক্ষার্থীদের ছুটোছুটিতে স্কুল প্রাঙ্গণ দীর্ঘ এক মাস পরে আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

স্কুলটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা করেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মিষ্টিমুখ করান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দিন আহমদ ও স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভিন আক্তার মালা।

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা স্কুলটি পুনরায় চালু করার জন্য বলেছেন। স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান মহোদয়ের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি সোমবার থেকে স্কুলটি পুনরায় চালু হবে। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে জেলা শিক্ষা অফিসার সরেজমিনে এসেছিলেন। তাকে আমি স্কুলটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুম বিল্লাহ’র সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে শিগগিরই তাদের সঙ্গে বসে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করব।

স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভিন আক্তার মালা  দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমপি সেলিম ওসমান মহোদয়ের নির্দেশে স্কুলটি পুনরায় চালু হওয়ায় আমরা অন্তরের অন্তস্তল থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এমপি মহোদয়ের নির্দেশে স্কুলটি খুলে দেওয়া ড্রেজার পরিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মহোদয়কেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি স্কুলটি চালু হতে যারা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।

প্রথম দিনেই বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে গিয়ে হাজির হন। সেই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষিকারাও যেন প্রাণ ফিরে পায়। স্কুলের তালা ভাঙার পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে উড়ানো হয় বাংলাদেশের পতাকা। গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত।

স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ার পরে শিক্ষার্থীরা মাঝেমধ্যে স্কুলে আসলেও শিক্ষকেরা প্রতিদিনই স্কুলটিতে আসতেন। তারা টিচার্স রুমে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বসে থাকতেন। স্কুলটিতে প্রতিদিনই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হতো। তবে বৃহস্পতিবার ৩১ জানুয়ারি থেকে স্কুলটিতে আর জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার জন্য নির্দেশনা দেয় ড্রেজার পরিদপ্তরের ঊর্ধ্বতনরা। এ ছাড়া ৩১ জানুয়ারি স্কুলটির সকল শ্রেণিকক্ষে তালা লাগানো হয়েছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত