সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পুলিশের দরবারে প্রধানমন্ত্রী

আমরণ রেশন ও ভাতা বাড়ানোর দাবি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪২ এএম

কর্মরত অবস্থায় পুলিশের কোনো সদস্য মারা গেলে আর্থিক অনুদান ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখ টাকা এবং আহত হলে ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ টাকা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনীর পর দরবার হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবি তুলে ধরেন পুলিশের কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও স্বরাষ্ট্র সচিব (জননিরাপত্তা) মোস্তফা কামালউদ্দিন এবং অতিরিক্ত আইজিপি থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বাহিনীর সদস্যদের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী সমাধানের চেষ্টা চালান বলে উচ্চপর্যায়ের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

সভায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার ওসি আবদুল আহাদ খান দাবি করেন, পুলিশের আপ্রাণ চেষ্টায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। কিন্তু কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে কিংবা আহত হলে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় তা দিয়ে চলে না। দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্য মারা গেলে ৮ লাখ টাকা ও আহত হলে ৪ লাখ টাকা, কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে ১৫ লাখ টাকা ও আহত হলে ৮ লাখ টাকা অনুদানের ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার শফি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, সারদা প্রশিক্ষণ একাডেমিসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পর্যাপ্ত শয্যা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি পুলিশের হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপন ও এর সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান। পুলিশের এক এসআই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পুলিশ সদস্যদের যানবাহন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পুলিশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সুবিধা চান তিনি।

কুড়িগ্রামের কর্মরত এএসআই মাহবুবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, এখন কর্মরত অবস্থায় পুলিশ সদস্য তার পরিবারের সর্বোচ্চ চার ব্যক্তির জন্য রেশন পেয়ে থাকেন। কিন্তু অবসরে গেলে কোনো রেশন পান না। তাই পুলিশের যেকোনো সদস্য অবসরে গেলে আমৃত্যু দুই সদস্যের রেশন সুবিধা দাবি করেন তিনি।

পুলিশের ক্রীড়া কমপ্লেক্স, পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে আরও পদ সৃষ্টি করা, জনবল বাড়ানো ও চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পোশাকসামগ্রী সরকারিভাবে সরবরাহ করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জমাদি সরবরাহের দাবি জানান ডিএমপির কনস্টেবল কামরুন নাহার।

ডিএমপির সার্জেন্ট সিলভিয়া ফেরদৌস ট্রাফিক ও ড্রাইভিং ভাতাসহ আরও কিছু ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি ২০১৫ সালের নতুন পে-স্কেলের আলোকে পুলিশ সদস্যদের ভাতা দেওয়ার দাবি জানান।

এসব দাবি বাস্তবায়নে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা রকমের অপরাধ নেই বললে চলে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণকে সেবা দিতে হবে। নিরাপরাধ কাউকে কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না। দরবারের শুরুতে পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত