বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কর্ণফুলীকে দখলমুক্তে অভিযান শুরু

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৫১ এএম

কর্ণফুলী নদীর দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার ৫০টি ছোট-বড় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একটি স্থাপনার দেয়ালও রয়েছে।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরীর সদরঘাট লাইটারেজ জেটি এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (চউক) বুলডোজার, এসকেভেটর, পে-লোডার, ট্রাকসহ নানা সরঞ্জাম দিয়েছে। অভিযানে র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের পাশাপাশি প্রায় ১০০ শ্রমিক অংশ নেয়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অভিযান চলে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের অভিযান শুরু হবে।

অভিযান চলাকালীন নগরীর মাঝিরঘাট এলাকায় পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের নদী বাঁচাতে হবে, দেশকে বাঁচাতে হবে। দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আমরা ছাড় দেব না। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি হুমকি-ধমকি এসেছে। ম্যাজিস্ট্রেটদেরও হুমকি দিয়েছে। আমরা এতে বিচলিত নই। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও আরএস জরিপ অনুযায়ী কর্ণফুলীর তীরের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এর আগে গত শুক্রবার উচ্ছেদের বিষয়ে ওই এলাকায় মাইকিং করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী অনেকে জিনিসপত্র সরালেও সোমবার অনেককে তা করতে দেখা যায়। এদিন সদরঘাট এলাকার ‘সাম্পান চালক সমবায় সমিতি’ নামে একটি সংগঠনের কার্যালয়, অবৈধভাবে গড়ে তোলা যাত্রীছাউনি, বিআইডব্লিউটিএর একটি দেয়াল, কর্ণফুলী কোল্ড স্টোরেজের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান মুক্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েক ধাপে এ অভিযান চলবে। প্রথম ধাপে নগরীর লাইটারেজ জেটি ঘাট থেকে বারেক বিল্ডিং পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এতে কর্ণফুলীর তীরবর্তী ১০ একর জায়গা উদ্ধার হবে।’ প্রথম দিনে ৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নিজ থেকে ৩০টির মতো স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী নদী দখল, মাটি ভরাট ও নদীতে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই একটি রিট আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত কর্ণফুলীর সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলে।

জরিপ চালিয়ে কর্ণফুলীর দুই তীরে ২ হাজার ১১২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে জেলা প্রশাসন। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট ওইসব স্থাপনা তিন মাসের মধ্যে সরানোর আদেশের পাশাপাশি ১১ দফা নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত। আরেক আদেশে ৬টি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরপর ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযান পরিচালনার জন্য একাধিকবার ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ চায় জেলা প্রশাসন। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় থমকে যায় উচ্ছেদ কার্যক্রম। সম্প্রতি নবনিযুক্ত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বরাদ্দের বিষয়ে আশ্বাসের পর অভিযান শুরু হলো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত