সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মাদক কারবারিদের ‘নতুন তালিকা’ হচ্ছে

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০০ এএম

সারা দেশে মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা তৈরি হচ্ছে। মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর তালিকা হালনাগাদ শুরু করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং কোস্টগার্ড ছাড়াও তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই সংস্থাগুলোর তালিকা সমন্বয় করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরির পর দেশজুড়ে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম শিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি হাতে পেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকেই তালিকা হালনাগাদের তাগিদ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে সারা দেশে মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই নতুন তালিকা তৈরিতে হাত দেয় বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আরও দুটি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও হালনাগাদ তালিকা জমা না দেওয়ায় সংস্থাগুলোকে ফের চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদক কারবারিদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কাজ করছি। তালিকার কাজটি গোপনীয় হওয়ায় এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া ঠিক হবে না।’

র‌্যাব, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অতি গোপনীয়তার সঙ্গে বিভিন্ন বাহিনী মাদক কারবারিদের তালিকা করে থাকে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জেলা শহর পর্যন্ত বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে এ তালিকা করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান দপ্তরের গোপনীয় শাখার মাধ্যমে তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়। এরপর একাধিক মন্ত্রণালয় ও মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বিভিন্ন তালিকা সমন্বয় করে একটি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, যেসব মাদক কারবারির নাম ছয়টি সংস্থার তালিকাতেই পাওয়া যায় তাদের ‘এ’ ক্যাটাগরির মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। যাদের নাম অন্তত পাঁচটিতে থাকে তাদের ‘বি’ ক্যাটাগরি, চার সংস্থার তালিকায় একই নাম পাওয়া গেলে তাকে ‘সি’ ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়। একইভাবে মাদক কারবারিরা ‘ডি’, ‘ই’ এবং ‘এফ’ ক্যাটাগরিভুক্ত হয়।

একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, কর্মপরিধি কম হওয়ায় দ্রুত তালিকা তৈরি করে জমা দিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু বাকি সংস্থাগুলো সারা দেশেই কাজ করছে বলে সময় লাগছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পুরনো তালিকা অনুয়ায়ী, দেশে ৮৯১ জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ২০০, চট্টগ্রামে ৮০, ঢাকায় ১০০-১৫০, রাজশাহীতে ২০, সিলেটে ১০, খুলনায় ২০, কুমিল্লায় ১০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০, যশোরে ১৫-২০ এবং বরিশালে ৫-৬ জন মাদক কারবারির নাম আছে। অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই সময় জেলাভিত্তিক ‘শীর্ষ ১০’ জনের নাম দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় মাদক কারবারির সংখ্যা কম হয়েছিল। তবে এবার খুচরা থেকে ‘গডফাদার’ পর্যন্ত সবার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে হালনাগাদ তালিকায় ছয় হাজারেরও বেশি কারবারির নাম পাওয়া গেছে। এছাড়া একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রায় আট হাজার জনের তালিকা দিয়েছে। বিজিবির তালিকায় আছে ৭৫০ কারবারির নাম।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত