শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সীমান্তে এবার মিয়ানমারের চিন রাজ্যের বাসিন্দারা

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৫ এএম

রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের পর এবার মিয়ানমারের চিন রাজ্যের বাসিন্দারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। গত রবিবার বিকেল থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চাইংক্ষ্যং পাড়ার কাছে বিভিন্ন

নৃগোষ্ঠীর প্রায় ১০০-১৫০ জন অবস্থান নিয়েছে। রাজ্যটিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামীদের সংঘর্ষের কারণে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

মিয়ানমার সীমান্তে সে দেশের বাসিন্দাদের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বান্দরবান সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল জহিরুল ইসলাম। গতকাল সোমবার তিনি বলেন,  ‘মিয়ানমারের নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বিজিবি। সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে কিছু লোক সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে- এমন খবর আমরা পেয়েছি। তবে এলাকাগুলো এতই দুর্গম যে, ওখান থেকে সঠিক খবর পাওয়া বেশ দুঃসাধ্য। আমরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিরা বম বলেন, ‘মিয়ানমারের চিন রাজ্যের কিছু এলাকায় সে দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গোলাগুলি হয়েছে বলে শুনেছি। বিশেষ করে খমংওয়া ও ক্যান্টালিন এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে খবর এসেছে। এতে ওখানকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তারা এখন সীমান্তের মিয়ানমার অংশের তাইদং এলাকায় অবস্থান করছে।’

চাইংক্ষ্যং পাড়ার বাসিন্দা অংহ্লা মারমা বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লোকজন সীমান্তবর্তী ৭২নং পিলারের কাছে অবস্থান নিয়েছে। প্রায় এক-দেড়শ মানুষ অস্থায়ী ছাউনিতে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে রাখাইন, খেয়াং, বম ও খুমি নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন রয়েছেন। মিয়ানমারের চিন রাজ্যের প্লাটোয়া জেলায় কিছুদিন ধরে আরাকান আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে বলে আমরা শুনেছি।’

এদিকে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতন শুরুর পর এ পর্যন্ত সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ এটিকে জাতিগত নিধন অভিযান ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বলে অভিহিত করেছে। আগে থেকেই আরও ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এরমধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করলেও এর বাস্তবায়ন শুরু করেনি মিয়ানমার। এ অবস্থায় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার বিশেষ দূত হিসেবে সোমবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত