রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মাতব্বরের রায় না মানায় ‘একঘরে’ চার মাস

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:৩০ পিএম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সালিসের রায় না মানায় একটি পরিবারকে চার মাস ধরে একঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মান্নারগাও ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের মাতব্বরদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের অনিল দাস ও তার চাচাতো ভাই নিধু দাসের মধ্যে জায়গা-জমি নিয়ে অনেক দিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। চার মাস আগে এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তাদের বাড়িতে মাতব্বরেরা সালিসে বসেন। সালিস চলাকালে অনিল ও নিধুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে নিধু আহত হন।

এরপর হাতাহাতির ঘটনার সালিস করতে আবারও বৈঠকে বসেন গ্রামের মাতব্বররা। সালিস বৈঠকে অনিল দাসের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অনিল দাসের ছেলে অনিক দাস তার চাচা নিধু দাসকে মাথায় আঘাত করেছে এই অভিযোগে হিন্দু শাস্ত্রমতে তার দেহ শুদ্ধির জন্য মাথা ন্যাড়া করার রায় দেওয়া হয়। কিন্তু মাথা ন্যাড়া করার রায় না মানায় পরবর্তীতে তাদের এক ঘরে করে রাখে মাতব্বররা।

অনিল দাস জানান, ‘আমার ছেলে অনিক দাস দশম শ্রেণিতে পড়ে। আপন চাচাকে মারধর করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এ জন্য আমাদের  ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি আরেকটি রায় ছিল, বড়দের গায়ে হাত তোলায় শাস্ত্র অনুযায়ী ‘দেহ শুদ্ধির’ জন্য অনিককে মাথা ন্যাড়া করতে হবে। কিন্তু এটি না মানায় আমার পরিবারকে চার মাস ধরে একঘরে করে রাখা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে গ্রামের অন্যদের মেলামেশা কিংবা চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আছে।’ এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানায় ৯জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান অনিল চন্দ্র দাস।

ওই দিন সালিসে নেতৃত্বে দিয়েছেন গ্রামের অবনি মোহন দাস, রবীন্দ্র দাস, ধিরু দাস, ভূমেন্দ্র দাস, বকুল দাস, পুতুল দাস, দেবল দাস, রণজিৎ দাস চিনু দাসসহ বেশ কয়েকজন।

সালিসে উপস্থিত অবনি মোহন দাস মাথা ন্যাড়া করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন- ‘অনিলই পঞ্চায়েতের সঙ্গে থাকতে চায় না। তখন আমরা বলেছি, তুমি তোমার মতো চলো, আমরা আমাদের মতো চলব।’

মান্নারগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু হেনা আজিজ বলেন- ‘বিষয়টি আমি জানি না, খোঁজ নিয়ে দেখব। একঘরে করে রাখার বিষয়টি অমানবিক ও আইন বিরুদ্ধ কাজ।’

দোয়ারাবাজার থানার উপপরিদর্শক ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেব। যদি সেটিও না হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত